লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

 অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের

লক্ষ্য উদ্দেশ্য

 দলীয় রাজনীতির উর্ধ্বে এই সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের লক্ষ্য হচ্ছে বিক্রমপুরের গৌরবোজ্জ্বল অতীত ঐতিহ্য সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে সচেতন করা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাতি গঠনমূল কাজে বিক্রমপুরের দলমত নির্বিশেষে সকল স্তরের নারী পুরুষকে উদ্বুদ্ধ ও সংগঠিত করা, মানুষের মধ্যে অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক এবং মানবিক আদর্শ,  চেতনা, অগ্রসর ধ্যান-ধারণার প্রসার, দেশপ্রেম, লোকহিত,  সততা,  নিষ্ঠা এবং স্থানীয় উন্নয়নে উদ্বুদ্ধ করা। অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের অন্যতম লক্ষ্য যাবতীয় কুসংস্কার, ধর্মান্ধতা, মৌলবাদ, কূপম-ুকতা ও সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে মুক্তচিন্তা,  বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি, সৃজনশীলতা, আধুনিকতা এবং মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ব ও সংহতি গড়ে তোলা এবং একই সঙ্গে শিক্ষাবিস্তার, জ্ঞানানুশীলন,  সংস্কৃতিচর্চা,ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং মেধার বিকাশে যথাসম্ভব পৃষ্ঠপোষকতা দান সহ সাধ্যমতো ভূমিকা রাখা।

.কর্মসূচি

অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন উপরোক্ত লক্ষ্যে বহুমুখী বাস্তব কার্যμম গ্রহণ করেছে।
১. বিক্রমপুরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রতড়বতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষণে এই অঞ্চলে অন্তত একটি জাদুঘর বা সংগ্রহশালা প্রতিষ্ঠা
২. প্র ম পর্যায়ে উপজেলা কেন্দ্রে এবং পরে প্রতিটি ইউনিয়নে পাঠাগার স’াপন
৩. সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলা
৪. মেধাবী ছাত্র-ছাত্রী, কৃতী শিক্ষক, শিল্পী-সাহিত্যিক, সংস্কৃতি কর্মী,μীড়াবিদ, সমাজকর্মী, দক্ষ কৃষক, মজুর, পেশাজীবী ও সফলউদ্যোক্তাদের সম্মাননাজ্ঞাপন এবং উৎসাহিত করা
৫. সঙ্গীত, নৃত্য, নাট্যকলা, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন এবং খেলাধুলা প্রভৃতির প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার ব্যবস’া করা
৬. মাতৃভাষার চর্চা, বিজ্ঞান চর্চা ও বিভিনড়ব বিষয়ওয়ারি কর্মশালা, সেমিনার, প্রতিযোগিতার আয়োজন করা
৭. ছাত্র-ছাত্রীসহ সকল বয়সের মানুষের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে পাঠচμ গড়ে তোলা, সেরা পাঠকদের পুরস্কৃত করা
৮. হত-দরিদ্রদের সহায়তার উদ্দেশ্যে কর্মসূচি গ্রহণ
৯. জনগণের স্বাস’্য সচেতনতা বৃদ্ধি, মাতৃমঙ্গল, শিশু-কিশোরদেও সদাচরণ, বিনয়, দেশপ্রেম, অনুসন্ধিৎসা প্রভৃতি মানবিক গুণাবলীসহ তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়ক কার্মμম গ্রহণ
১০. পরিবেশ সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো কারণে বিপনড়ব মানুষের পাশে দাঁড়ানো
১১. গবেষণা ও প্রকাশনা কার্যμম গ্রহণ। এছাড়া অগ্রসর বিক্রমপুর সকল জাতীয় দিবসসমূহ যথাযথ মর্যাদায় নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে পালন করবে।
০১.কার্যμম
##. ১৯৯৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর দুঃস’ ছাত্রদের মধ্যে বই বিতরণ ও সেলাই মেশিন বিতরণের মাধ্যমে প্রথম আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
সেই দিনের যাত্রা শুরুর পর আর আমরা পেছনে ফিরে তাকাইনি। সংগঠনটি লৌহজং-উপজেলার সীমানা ছাড়িয়ে সম্প্রসারিত হয়েছে প্রথমে মুন্সিগঞ্জে, পরে শ্রীনগর এবং সর্বশেষ সিরাজদিখান উপজেলায়। সম্প্রসারণের প্রধান কারণ ও আকর্ষণ ছিল অগ্রসর বিক্রমপুর লৌহজং কেন্দ্র কর্তৃক প্রতিবছর ‘কৃতী শিক্ষার্থী ও গুণীজন সংবর্দ্ধনা’ অনুষ্ঠানের নিয়মিত আয়োজনের চমৎকারিত্ব। কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী করে তোলা, পরীক্ষায় তাদের এবং শিক্ষকদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি জানিয়ে সংবর্দ্ধনা প্রদান এবং স্মারক উপহার ও সার্টিফিকেট প্রদান বিপুল উৎসাহের সঞ্চার করে। একইসঙ্গে এর সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য কার্যক্রম শিশু-কিশোরদের কেবল লেখাপড়া বা ভালো রেজাল্ট করার প্রতিই আগ্রহী করে তোলে না, তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্পর্শ লাভ করে। দেশপ্রেম, মুক্তচিন্তা, বিজ্ঞান মনস্কতা এবং চিত্রকলা, সঙ্গীত, রচনা প্রতিযোগিতা, উপসি’ত বক্তৃতা ইত্যাদি শিশু-কিশোরদের কাছে অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনকে জনপ্রিয় করে তোলে।

##. দারিদ্র বিমোচন সহায়ক প্রকল্প

অগ্রসর বিক্রমপুর লৌহজং কেন্দ্র ১৯৯৮ এর প্রলয়ংঙ্করি বন্যা পুনর্বাসনের কাজে অংশগ্রহণ ছাড়াও দুঃস’ অসহায় নারী পুরুষকে স্বাবলম্বী করার কাজে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে ১৯৯৯ ও ২০০০ সালে গ্রহণ করেছিল ‘দারিদ্র বিমোচন সহায়ক প্রকল্প’। এই প্রকল্পের অধীনে লৌহজং এর সকল ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়াডের্র দুইজন দুঃস’ নারী পুরুষকে বিনামূল্যে একটি করে ছাগলের বাচ্চা দান করা হয়। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যμম গ্রহণ করা হতে পারে।

##. কৃতী শিক্ষার্থী ও গুণীজন সম্মাননা

প্রতি বছর ‘কৃতী শিক্ষার্থী ও গুণীজন সম্মাননা’ অনুষ্ঠান ইতোমধ্যেই বিপুল মর্যাদা ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। প্রতিটি কেন্দ্র আলাদাভাবে স্ব স্ব উপজেলার প্রাইমারী স্তর থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স’রের মেধাবি ছাত্র-ছাত্রীদের এবং সেইসঙ্গে প্রবীণ ও কৃতী শিক্ষক ও সমাজের অন্যান্য স্তরের গুণী ব্যক্তিদেও সম্মাননা জানিয়ে আসছে।

##.জাতীয়/আন্তর্জাতিক দিবসসমূহ যথাযথ মর্যাদায় নানা কর্মসূচি গ্রহণ

অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন প্রতিটি কেন্দ্রের উদ্যোগেই একুশের শহীদ স্মরণে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস, বাংলা নববর্ষ ও বিজয় দিবস উপলক্ষে রচনা প্রতিযোগিতা, আবৃত্তি, সঙ্গীত, নৃত্য, উপসি’ত বক্তৃতা,উচ্চারণ ও বানান বিশুদ্ধিকরণ এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। উল্লিখিত কার্যμম ছাড়াও ছাত্র-ছাত্রী, তরুণ তরুণীদের শিক্ষা সফর এবং শিক্ষামূলক ছোট বড় বহুধরনের সৃজনশীল কার্যμম গ্রহণ করা হয়।

০১.০৫. গান ও নাচের স্কুল

২০০১ সালেই নূহ-উল-আলম লেনিন নিজের অর্থে তার পৈত্রিক বাড়িতে পূর্বের ছাপড়া ঘরটি ভেঙে খ প্যাটার্নের পাঠাগার ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ভবনটি নির্মাণ করে দেন। ২০০২ সাল থেকে এখানেই শুরু হয় অগ্রসর বিক্রমপুর সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কার্যক্রম। গড়ে ওঠে সঙ্গীত ও নৃত্য শিক্ষার স্কুল।সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্যোগে লৌহজং-এ একটি গান ও নাচের স্কুল চালুআছে। সেই সঙ্গে অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন সাংস্কৃতিক কেন্দের্র উদ্যোগে পরিবেশিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
মুন্সিগঞ্জের মালপাড়াস’ ‘অগ্রসর বিক্রমপুর ভবনে’ ইতোমধ্যে মুন্সিগঞ্জ কেন্দ্রের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

##. পাঠাগার

অগ্রসর বিক্রমপুরওে কার্যμম শুরু হয় লৌহজং-এর কনকসারে একটি পাঠাগার স’াপনের ভেতর দিয়ে। বর্তমানে কনকসারে সংগঠনের নিজস্ব ভবনে রহমান মাস্টার গণ পাঠাগার ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র চালু আছে। পাঠাগারের জন্য নিজস্ব জমির উপর কনকসাগর দিঘির কিনারে তিন তলা ভবন নির্মাণের শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে।…..
ইতোমধ্যে শ্রীনগর কেন্দ্রের উদ্যোগে একটি পাঠাগার চালু হয়েছে। মুন্সিগঞ্জ এবং সিরাজদিখান কেন্দ্রের পাঠাগারও অচিরেই উদ্বোধন করা হবে। এছাড়াও বিভিনড়ব উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে একাধিক পাঠাগার চালু রয়েছে এবং স’াপনের প্রস’িিত চলছে। অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন ডিজিটাল পাঠাগার উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছে।

০৫.০৭ ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের কাজ

লৌহজং কেন্দ্র এই ২০০০ সালেই এই জেলার প্রথম বেসরকারি পর্যায়ে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করে।আমরা তো ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের কাজ সরকার শুরু করার আগেই শুরু করেছিলাম। …..
ইতোমধ্যে অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট খোলা হয়েছে।

##.কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও মুক্তমঞ্চ নির্মাণ

লৌহজং-এর কনকসারে অগ্রসর বিক্রমপুরের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও মুক্তমঞ্চ নির্মাণের কাজ প্রায় সম্পন্ন হওয়ার পথে। স’ানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে একটি চারতলা ভবনের মালিক হতে চলেছে অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন। এখানে অতিথি, গবেষক ও ফেলোদের থাকার ব্যবস’াও হবে। একই প্রাঙ্গণে ‘মুক্তিযুদ্ধ গ্রন’ জাদুঘর’ উদ্বোধনের প্রস’তিও প্রায় শেষ পর্যায়ে। আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের মুক্তমঞ্চ, কেন্দ্রীয় কার্যালয়, রহমান মাস্টার গণ পাঠাগার, আর্কাইভস ও মুক্তিযুদ্ধ গ্রন’ জাদুঘরের জন্য নূহ-উল-আলম লেনিনের ভাই-বোনেরা পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া তাদের বাস’ভিটার ১৮ শতাংশ জমি অগ্রসর বিক্রমপুরকে দান করেছেন। প্রথমে ১০ শতাংশ দিয়েছিলেন। কিন’ তাতে অগ্রসর বিক্রমপুরের এ সব স’াপনার স’ান সংকুলান না হওয়ায় তারা চূড়ান্তভাবে আরও ৮ শতাংশসহ মোট ১৮ শতাংশ দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা জমিদাতা নূহ-উল-আলম লেনিনের ভাই-বোন ও পরিবারের সদস্যদের অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আপনারা জেনে খুশী হবেন অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও মুক্তিযুদ্ধ গ্রন’ জাদুঘরের উদ্বোধন করা হবে।

##. মিনা উৎসব

স্বাস’্য সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রচারধর্মী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।ইউনেস্কো, ইউনিসেফ প্রর্ভতি জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় অন্যান্য কর্মসূচির পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের ‘মিনা উৎসব’ পালিত হয়েছে। অনেক তরুণকে ‘লিডারশিপ’ ট্রেনিং দিয়ে আনা হয়েছে।

## বিক্রমপুর অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান, খনন ও গবেষণা কার্যক্রম

অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব বিক্রমপুর অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান, খনন ও গবেষণা কার্যক্রমের অভূতপূর্ব সাফল্য। দেশের খ্যাতিমান প্রত্নতত্ত্ববিদ ও উয়ারী-বটেশ্বরে বাংলাদেশের প্রাচীনতম দূর্গনগরী ও প্রত্ন নিদর্শনের আবিস্কারক জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সুফী মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বাধীন ঐতিহ্য অন্বেষণের সঙ্গে অগ্রসর বিক্রমপুরের যৌথ কার্যক্রম বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছে। প্রত্নতাত্ত্বিক না হয়েও ঐতিহ্য অন্বেষণের কাজে সরকারি সহযোগিতা আদায় করে দিতে গিয়ে ড. নূহ-উল-আলম লেনিন বিক্রমপুর অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান ও উৎখননের জন্য ঐতিহ্য অন্বেষণকে উদ্বুদ্ধ করেন। বস’ত তার আহ্বানে সাড়া দিয়েই ড. সুফী মোস্তাফিজুর রহমান বিক্রমপুর অঞ্চলে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন কাজ চালাতে এগিয়ে আসেন। জনাব নূহ-উল-আলম লেনিনের চেষ্টার ফলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এ কাজে সীমিত আর্থিক সহায়তাদান ও খননের অনুমতি প্রদানে সম্মতি দেয়। ২০১০ সাল থেকে মুন্মিগঞ্জ সদর উপজেলায় খনন কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের জন্মভিটার সন্নিকটে রঘুরামপুরে একটি বৌদ্ধ বিহারের অংশ বিশেষ মাটির তলা থেকে উন্মোচিত করা সম্ভব হয়েছে। বৈজ্ঞানিক কার্বন-১৪ পরীক্ষায় প্রামণিত হয়েছে এই বিহারটি ১ হাজার বছরের প্রাচীন। প্রত্নতত্ত্ববিদরা মনে করেন এটিই হচ্ছে ঐতিহাসিক বিক্রমপুরী বিহার, যেখানে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান অধ্যয়ন এবং অধ্যাপনা করেছেন। বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাসে এই আবিষ্কার একটি নতুন সংযোজন। ইতোমধ্যে বিক্রমপুরে এই বৌদ্ধবিহার আবিষ্কারের বিষয়টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পাঠক্রমে (ক্লাস ফাইভ ও ক্লাস নাইন)-এর পাঠ্য পুস্তকে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
এই কাজটি করতে গিয়ে আবিষ্কৃত হয়েছে সম্ভবত বাংলাদেশের প্রাচীনতম নৌকা, কাঠের ভাস্কর্য, বৌদ্ধ দেবী মুর্ত্তি, টেরাকোটাসহ নানারকম মূল্যবান প্রত্ন নিদর্শন।

##.রঘুরামপুর বৌদ্ধ বিহার আবিস্কার (বিক্রমপুরী বিহার)

অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন রঘুরামপুরে খনন করে বৌদ্ধ বিহার আবিস্কার করা হয়েছে যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য সংযোজন।২০১০ সাল থেকে মুন্মিগঞ্জ সদর উপজেলায় খনন কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের জন্মভিটার সন্নিকটে রঘুরামপুরে একটি বৌদ্ধ বিহারের অংশ বিশেষ মাটির তলা থেকে উন্মোচিত করা সম্ভব হয়েছে। বৈজ্ঞানিক কার্বন-১৪ পরীক্ষায় প্রামণিত হয়েছে এই বিহারটি ১ হাজার বছরের প্রাচীন। প্রত্নতত্ত্ববিদরা মনে করেন এটিই হচ্ছে ঐতিহাসিক বিক্রমপুরী বিহার, যেখানে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান অধ্যয়ন এবং অধ্যাপনা করেছেন। বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাসে এই আবিষ্কার একটি নতুন সংযোজন। …..

##. বৌদ্ধবিহার আবিষ্কারের বিষয়টি পাঠ্য পুস্তকে অন্তর্ভুক্ত

ইতোমধ্যে বিক্রমপুরে এই বৌদ্ধবিহার আবিষ্কারের বিষয়টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পাঠক্রমে (ক্লাস ফাইভ ও ক্লাস নাইন)-এর পাঠ্য পুস্তকে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
এই কাজটি করতে গিয়ে আবিষ্কৃত হয়েছে সম্ভবত বাংলাদেশের প্রাচীনতম নৌকা, কাঠের ভাস্কর্য, বৌদ্ধ দেবী মুর্ত্তি, টেরাকোটাসহ নানারকম মূল্যবান প্রত্ন নিদর্শন।

##. নাটেশ্বরে বৌদ্ধ মন্দির কমপ্লেঙ বা মন্দির নগরী আবিস্কার

সবচেয়ে আনন্দের বিষয় ২০১৩ সালে শুরু করে ২০১৪ এবং এবার ২০১৫ সালের খননের ফলে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার নাটেশ্বরে আবিষ্কৃত হয়েছে প্রাচীন বৌদ্ধ মন্দির কমপ্লেঙ বা মন্দির নগরী। এ বছর খনন ও গবেষণা কাজে অগ্রসর বিক্রমপুরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চীনের উনান প্রদেশের চার সদস্যের একটি প্রত্নতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞ দল। বলাবাহুল্য, প্রকল্পটি অগ্রসর বিক্রমপুরের হলেও খনন ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন ড. সুফী মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে ঐতিহ্য অন্বেষণ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীগণ।ছাড়াও বিভিনড়ব প্রাচীন নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে।এদুটি বৌদ্ধমন্দির ও বৌদ্ধ বিহারের নিকট দুটি সাইট জাদুঘর নির্মানের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এজন্য সংগঠনের নামে জমি μয় করা হয়েছে।

##. অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের খ্যাতি এখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে
অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের খ্যাতি এখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও মর্যাদার আসন পেয়েছে।নাটেশ্বরে খনন, গবেষণা ও সংরক্ষণের বিষয়ে চীনা সহযোগিতা সম্পর্কে এ বছর অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন ও চীনের উনান প্রাদেশিক প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের একটি সহযোগিতা-সম্মতিপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে। আমরা আশা করছি আগামী বছরগুলোতে এই সহযোগিতার ক্ষেত্রে আরও প্রসারিত হবে এবং আবিষ্কৃত বৌদ্ধ স’াপনাসমূহকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বৌদ্ধ সম্প্রদায় ও পর্যটকদের কাছে নাটেশ্বর আকর্ষণীয় দর্শণীয় স’ানে পরিণত হবে।

##. বিক্রমপুর জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ

বিশাল বাড়ি প্রাচীন প্রাসাদোপম ভবন,নয়নাভিরাম দুটি দীঘি ইত্যাদির এক সময়ের মালিক ছিলেন শ্রী যদুনাথ রায় ও তার পরিবার। বেদনাদায়ক সত্য হলো ১৯৬৫ সালের পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের পর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর প্ররোচনায় জীবন ও সম্ভ্রম রক্ষার জন্য তারা মাতৃভূমি বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় গ্রহন করতে বাধ্য হন। এই মর্মান্তিক ঘটনা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য অসীম লজ্জার। আমি আজ এই সম্মিলনী থেকে ইতোমধ্যে প্রয়াত যদুনথা রায় ও তার পরিবারের সদস্যদের কাছে আমাদের অপরিসীম বেদনাবোধ,লজ্জা,দীনতা প্রকাশ করছি। তাদের পরিত্যক্ত বাড়িতেই আমরা বিক্রমপুর জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছি। এ জন্য তাদের জীবিত উত্তরসূরীদের কাছে জানাচ্ছি কৃতজ্ঞতা। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এই বাড়িটি ও জলাশয় সমূহের ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ায় আমরা সরকারের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

বিক্রমপুরে একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন—

বিক্রমপুরে একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন আমাদের সভাপতি ড.নূহ-উল-আলম লেনিন দীর্ঘদিন যাবত লালন করছিলেন। এই জাদুঘর গড়ার লক্ষ্য থেকেই ২০০১ সালে তার পৈত্রিক ভিটায় এল প্যাটার্নের টিন শেড নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০০১ সালের অক্টোবরের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ফলে সেই জাদুঘর গড়ে তোলার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

২০০৯ সালেই আমরা বালাশুরের যদুনাথ রায়ের এই পরিত্যক্ত বাড়ির সন্ধান পাই এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় এখানে জাদুঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেই।

এখানে একটি জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ে নূহ-উল-আলম লেনিন সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করেন এবং তাদের সম্মতি নিয়েই কার্যক্রম শুরু করেন। অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে সরকার এই বাড়ী ও পুকুর অগ্রসর বিক্রমপুরকে লিজ প্রদান করে এবং জাদুঘর নির্মাণের অনুমতি দেয়।

২৯ মে ২০১০ সালে জাদুঘরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। ২৮ মে,২০১৩ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে জাদুঘরের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। ২০ জুন,২০১৪ সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর কর্তৃক জাদুঘরের দ্বারোদ্ঘাটন ছাড়াও এখানে একটি নৌকা জাদুঘর স্থাপনের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে জাদুঘর নির্মিত হলেও এর বিভিন্ন গ্যালারি সমূহ সাজসজ্জা ও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করার জন্য জনতা ব্যাংক ১০ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করে। অবশিষ্ট অর্থায়ন আমাদেরকেই করতে হয়েছে।

যদুনাথ রায়ের এই বাড়িটি অর্পিত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত। আইনানুগভাবে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনকে তা লিজ প্রদান করে। আমরা এই বাড়িটির দায়িত্বভার প্রশাসনের কাছ থেকে বুঝে নেওয়ার সময় দেখতে পাই এর কিছু অংশ অবৈধ দখলদারদের দখলে। প্রশাসন তাদের উৎখাত করার উদ্যোগ নেয়। তখনই এই দখলদার ও তার পৃষ্ঠপোষক কতিপয় স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি ড.নূহ-উল-আলম লেনিনের বিরুদ্ধে ‘অবৈধভাবে হিন্দু সম্পত্তি দখলের’অভিযোগ এনে জঘন্য মিথ্যা প্রচারণায় মেতে ওঠে। পত্র-পত্রিকায় মনগড়া খবর ছাপিয়ে নূহ-উল-আলম লেনিনের চরিত্র হনন ও তার সম্মানহানির চেষ্টা করা। আমরা এই অপচেষ্টা রুখে দাঁড়াই। স্থানীয় জনসাধারণ,বুদ্ধিজীবী,হিন্দু সম্প্রদায় এবং বিশেষত আওয়ামী লীগ দখলদার ও তার মদতদাতাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে রুখে দাঁড়ানোয় এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন অপপ্রচারকারীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে,অন্যদিকে বাড়িটি দখলমুক্ত হয়। নূহ-উল-আলম লেনিন একটি মানহানির মামলাও করেছিলেন।

যে সংবাদপত্রটি বিভ্রান্ত হয়ে অপপ্রচারে নেমেছিলে তারা যখন প্রকৃত অবস্থা জানতে পেরে অপপ্রচার বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেয়,ড.নূহ-উল-আলম লেনিন তখন মানহানির মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন। তবে বস্তুত ড.নূহ-উল-আলম লেনিনের চরিত্রহানির অপচেষ্টাটি ব্যর্থ হয়েছে।

গেস্ট হাউজ

ইতোমধ্যে এখানে একটি গেস্ট হাউজ নির্মাণ করা হয়েছে।

##. নৌকা জাদুঘর স’াপনের কার্যক্রম উদ্বোধন

২০ জুন, ২০১৪ সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর কর্তৃক জাদুঘরের দ্বারোদ্ঘাটন ছাড়াও এখানে একটি নৌকা জাদুঘর স’াপনের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।

##.গবেষণাকেন্দ্র নির্মাণ

অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন মুন্সীগঞ্জের মালপাড়ায় একটি দ্বিতল গবেষণাকেন্দ্র নির্মাণ সম্পনড়ব হয়েছে। মুন্সিগঞ্জের মালপাড়ায় সরকারের একটি পরিত্যক্ত এবং বাস অনুপযোগী ভবনের অংশ বিশেষকে আমরা সংস্কার করতে সক্ষম হয়েছি। এর পাশে আমরা আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণ করেছি। মালপাড়ার এই ভবনটির নামকরণ করা হয়েছে অগ্রসর বিক্রমপুর ভবন। ইতোমধ্যেই সংগঠনের সভাপতি নূহ-উল-আলম লেনিন ভবনটি উদ্বোধন করেছেন। ভবনটি নির্মাণ ও সংস্কারের যাবতীয় অর্থ সংগ্রহ এককভাবে নূহ-উল-আলম লেনিন করেছেন। আমরা এ জন্য তাকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
এই ভবনে কেন্দ্রীয় পর্ষদের উদ্যোগে ‘জ্ঞানপীঠ’ স্বদেশ গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হবে। এই গবেষণা কেন্দ্রে ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, অর্থনীতি এবং প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার সুযোগ থাকবে। ইতোমধ্যে ড. নূহ-উল-আলম লেনিনকে সভাপতি এবং প্রফেসর সুখেন ব্যানার্জীকে কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব দিয়ে গবেষণা পরিচালনার একটি প্রাথমিক কমিটি করা হয়েছে। বর্তমান সম্মিলনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে গবেষণা কেন্দ্রটির উদ্বোধন ও পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা কমিটি করা হবে।

##.ত্রৈমাসিক পত্রিকা ‘অগ্রসর বিক্রমপুর ’
বিক্রমপুরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাফল্য তুলে ধরার জন্য এবং গবেষণালব্ধ ফলাফল প্রকাশের জন্য ‘অগ্রসর বিক্রমপুর ’ নামে একটি ত্রৈমাসিক পত্রিকার ডিক্লারেশন নেয়া হয়েছে। অগ্রসর বিμমপুরের নিজস্ব প্রকাশনা ও মুখপত্র ‘অগ্রসর বিক্রমপুর ’ ত্রৈমাসিক ভিত্তিকে প্রকাশিত হচ্ছে।
ইতিমধ্যে বিক্রমপুরের ইতিহাস সম্পর্কিত একটি গবেষণা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। গবেষণা কর্মটি গ্রন’াকারে প্রকাশিত হচ্ছে।
এছাড়া ‘ঐতিহ্য’ নামে শ্রীনগর কেন্দ্র ২০১০ সালে বালাশুরে জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ ও কৃতি শিক্ষার্থী ও গুণীজন সন্মাননা অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে একটি স্মরণিকা প্রকাশ করে।

##.মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গ্রন’ জাদুঘর নির্মাণ ‘মুক্তিযুদ্ধ গ্রন’ জাদুঘর’
লৌহজং-এর কনকসারে একটি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গ্রন’ জাদুঘর ‘মুক্তিযুদ্ধ গ্রন’ জাদুঘর’ উদ্বোধনের প্রস’তিও প্রায় শেষ পর্যায়ে।

০১.২১. প্রামাণ্য ও কাহিনীচিত্র (চলচ্চিত্র) প্রদর্শনী
নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের এবং আমাদের অতীত গৌরবের ইতিহাস তুলে ধরার জন্য মাঝে মাঝে আয়োজন করা হয় প্রামাণ্য ও কাহিনীচিত্র (চলচ্চিত্র) প্রদর্শনীর।

##. কেন্দ্রীয় কমিটি
সংগঠনের এই ক্রম বিস্তৃতি ও বহুমুখী কার্যক্রমকে সমন্বিত এবং সুসংগঠিত করার উদ্দেশ্যে একটি গঠনতন্ত্র প্রণয়ন এবং কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের তীব্র তাগিদ সৃষ্টি হয়। এই পটভূমিতেই ২০০৮ সালে অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের একটি গঠনতন্ত্র প্রণয়ন ও কেন্দ্রীয় পর্ষদ গঠনের উদ্দেশ্যে কনকসারে দুদিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় একটি গঠনতন্ত্র গ্রহণ ও নূহ-উল-আলম লেনিনকে সভাপতি, অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলমকে সহ-সভাপতি, এনামুল হক চৌধুরী খসরুকে সাধারণ সম্পাদক, নজরুল ইসলামকে সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং সুধাংশু কুমার দাসকে কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত করে একটি কেন্দ্রীয় পর্ষদ গঠিত হয়। ৩৭ সদস্যের কমিটি গঠনের বিধান থাকলেও এতদিন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয় নি।
কেন্দ্রীয় পর্ষদ গঠিত হওয়ায় অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। তবে সংগঠনের নিয়মিত কার্যক্রম উপজেলা শাখা বা উপজেলা কেন্দ্রের নেতৃত্বেই পরিচালিত হচ্ছে। আমাদের প্রতিষ্ঠানের সাংগঠনিক বৈশিষ্ট্য ও কার্যক্রমের ধারা অনুযায়ী উপজেলা শাখার ওপরই প্রধান দায়িত্ব ন্যস্ত। তারাই প্রধানত সংগঠনের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

কিন’ ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় পর্ষদের উদ্যোগেও গুরুত্বপূর্ণ কতগুলো কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে এবং হচ্ছে।

##.অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন বেশ কয়েকজন বরেণ্য ব্যক্তির জন্মশতবার্ষিকী পালন করেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

০২.সাংগঠনিক কাঠামো
সদস্যপদ : শিশু-কিশোরসহ যে কোনো বয়সের নারী-পুরুষ এই সংগঠনের সদস্য হতে পারেন। ষোল বছরের নিচে শিশু কিশোরগণ প্রার্থী সদস্যপদের জন্য এবং ষোল বা তদুর্ধ বয়সের যে কেউ গঠনতন্ত্র ও কর্মসূচি মেনে, দুইজন পুর্ণাঙ্গ সদস্যের সুপারিশμমে নির্ধারিত ফরমে প্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদের জন্য আবেদন করতে পারেন। পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদদানের এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট শাখা কমিটির।

০৩.কর্মপরিধি: অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের কর্মপরিধি গজারিয়া ছাড়া মুন্সিগঞ্জ জেলার সব কয়টি উপজেলা। μমান্বয়ে দক্ষিণ বিক্রমপুর- যা একদা বিμমপুর পরগণা হিসেবে পরিগণিত হতো- সংগঠন বিস্তৃত করা যেতে পারে

০৪.সাংগঠনিক স্তর বিন্যাস
অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের স্তর বিন্যাস হচ্ছে নিমড়বরূপ। কেন্দ্রীয় কমিটি, উপজেলা কেন্দ্র (উপজেলা কমিটি), ইউনিয়ন ভিত্তিক উপকেন্দ্র (উপকেন্দ্র টিম)এবং প্রয়োজনে আঞ্চলিক কেন্দ্র/উপকেন্দ্র। একজন সভাপতি, তিনজন সহসভাপতি,সাধারণ সম্পাদক, একজন সহ-সাধারণ সম্পাদক, কোধাধ্যক্ষ এবং ৭জন বিভাগীয় সম্পাদক ও ১৭জন সদস্যসহ উপজেলা কেন্দ্র গঠিত হবে।
ইউনিয়ন পর্যায়ে বিধি মোতাবেক উপকেন্দ্র গঠন করা যাবে।

০৫.আয়ের উৎস:
এই প্রতিষ্ঠানটি মূলত সদস্যদের চাঁদা ও অনুদান হতে পরিচারিত হয়। কমিটি সদস্যদের প্রতিমাসে এবং সদস্যদের বছরে নির্ধারিত পরিমাণ চাঁদা দিতে হয়। স্বেচ্ছাপ্রণোদিত অনুদান গ্রহণ করা হয়। এছাড়া সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুদানও গ্রহণ করা যেতে পারে। প্রকাশনা থেকেও আয়ের ব্যবস’া হতে পারে।