Blog

সংগঠনের কার্যক্রম সম্পর্কিত প্রতিবেদন 12 Sep

সংগঠনের কার্যক্রম সম্পর্কিত প্রতিবেদন

অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন

কেন্দ্রীয় পর্ষদ

দ্বিতীয় সম্মিলনী

২১ মার্চ,শনিবার,২০১৫

বিক্রমপুর জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রাঙ্গণ, বালাশুর,শ্রীনগর

সংগঠনের কার্যক্রম সম্পর্কিত প্রতিবেদন

মো. নজরুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক

অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় পর্ষদ

শ্রদ্ধেয় সভাপতি,

সম্মানিত অতিথিবৃন্দ,কেন্দ্রীয় পর্ষদের নেতৃবৃন্দ এবং সমবেত প্রতিনিধি ভাই ও বোনেরা,আপনারা আমার সশ্রদ্ধ শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন। আমি আমার বক্তব্যের শুরুতেই স্বাধীনতার এই মাসে সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী ও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে শহীদ চার জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম. মনসুর আলী ও এএইচএম কামারুজ্জামানের পবিত্র স্মৃতি। সুগভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিয়ে স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লক্ষ শহীদের অমলিন আত্মদানের স্মৃতি। আমি বিশেষভাবে স্মরণ করছি বিক্রমপুর অঞ্চলের সেই সব বীর শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতিÑযাদের আত্মদানে আমাদের প্রিয় বিক্রমপুর গৌরবান্বিত হয়েছে।

 

যে স্থানটিতে আজ আমরা সম্মিলনি উপলক্ষে মিলিত হয়েছি, সেই স্থানটি অর্থাৎ এই বিশাল বাড়ি প্রাচীন প্রাসাদোপম ভবন, নয়নাভিরাম দুটি দীঘি ইত্যাদির এক সময়ের মালিক ছিলেন শ্রী যদুনাথ রায় ও তার পরিবার। বেদনাদায়ক সত্য হলো ১৯৬৫ সালের পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের পর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর প্ররোচনায় জীবন ও সম্ভ্রম রক্ষার জন্য তারা মাতৃভূমি বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় গ্রহন করতে বাধ্য হন। এই মর্মান্তিক ঘটনা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য অসীম লজ্জার। আমি আজ এই সম্মিলনী থেকে ইতোমধ্যে প্রয়াত যদুনথা রায় ও তার পরিবারের সদস্যদের কাছে আমাদের অপরিসীম বেদনাবোধ, লজ্জা, দীনতা প্রকাশ করছি। তাদের পরিত্যক্ত বাড়িতেই আমরা বিক্রমপুর জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছি। এ জন্য তাদের জীবিত উত্তরসূরীদের কাছে জানাচ্ছি কৃতজ্ঞতা। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এই বাড়িটি ও জলাশয় সমূহের ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ায় আমরা সরকারের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

 

আমাদের আজকের অনুষ্ঠান হচ্ছে রাঢ়িখাল ইউনিয়নে। আপনারা জানেন রাঢ়িখাল আজ জগৎবিখ্যাত হয়ে আছে খ্যাতিমান বিজ্ঞানি স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর পৈত্রিক নিবাস হিসেবে। এই ইউনিয়নেই জন্ম নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত ভাষা বিজ্ঞানী, প্রথা বিরোধী লেখক, গবেষক ও কবি হুমায়ূন আজাদ। আজকের সম্মিলন থেকে আমরা দুই প্রজন্মের এই দুই খ্যাতিমান বাঙালির প্রতি জানাচ্ছি বিন¤্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

 

সংগ্রাম প্রতিনিধিবৃন্দ,

আপনারা জানেন, আমাদের প্রাণপ্রিয় প্রতিষ্ঠান অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাকাল ২৪ এপ্রিল ১৯৯৮। ইতোমধ্যে আমরা ১৬ টি বছর অত্রিকম করে এসেছি। অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের খ্যাতি এখন আন্তর্জাতিক পরিম-লেও মর্যাদার আসন পেয়েছে। একটি স্থানীয় বা আঞ্চলিক সামাজিক-সংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে আমরা যে সুনাম, মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছি, বাংলাদেশে সম্ভবত এর কোনো দ্বিতীয় নজির নেই। এই অর্জনের জন্য আমরা গৌরবান্বিত বোধ করছি। আর এই গৌরব অর্জনের জন্য আমি অগ্রসর বিক্রমপুর কেন্দ্রীয় পর্ষদের পক্ষ থেকে আপনাদেরকে জানাচ্ছি বাসন্তি অভিনন্দন। আমরা জানি যার অবদানের জন্য আজ আমাদের সংগঠন আজইে মর্যাদার আসনে অভিষিক্ত হতে পেরেছে, তিনি হচ্ছেন এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাণ পুরুষ ড. নূহ-উল-আলম লেনিন। আসুন, আমরা সবাই মিলে তাকে জানাই প্রাণঢালা অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা। কামনা করি তার সুস্থ, সক্রিয় দীর্ঘ জীবন।

কোন পটভূমিতে অগ্রসর বিক্রমপুর গড়ে উঠেছিল তা আপনাদের জানা আছে। ১৯৯৭ সালে লৌহজং এলাকার কয়েকজন বিশিষ্টজন ও তরুণ নূহ-উল-আলম লেনিনের নেতৃত্বে বন্যাত্রাণের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনের কাজের ক্ষেত্রেও তারা সক্রিয় ছিলেন। বলা যায় বন্যা-উত্তর পুনর্বাসনের কাজের সময়ই একটি অরাজনৈতিক সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তোলার তাগিদ সৃষ্টি হয়। সবাই মিলে নূহ-উল-আলম লেনিনকে এ ধরনের একটি সংগঠন গড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানায়।

আর এই অনুরোধে সাড়া দিয়েই তিনি ১৯৯৮ সালের ২৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠা করেন অগ্রসর বিক্রমপুর। ১৯৯৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর দুঃস্থ ছাত্রদের মধ্যে বই বিতরণ ও সেলাই মেশিন বিতরণের মাধ্যমে প্রথম আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

সেই দিনের যাত্রা শুরুর পর আর আমরা পেছনে ফিরে তাকাইনি। সংগঠনটি লৌহজং-উপজেলার সীমানা ছাড়িয়ে সম্প্রসারিত হয়েছে প্রথমে মুন্সিগঞ্জে, পরে শ্রীনগর এবং সর্বশেষ সিরাজদিখান উপজেলায়। সম্প্রসারণের প্রধান কারণ ও আকর্ষণ ছিল অগ্রসর বিক্রমপুর লৌহজং কেন্দ্র কর্তৃক প্রতিবছর ‘কৃতী শিক্ষার্থী ও গুণীজন সংবর্দ্ধনা’ অনুষ্ঠানের নিয়মিত আয়োজনের চমৎকারিত্ব। কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী করে তোলা, পরীক্ষায় তাদের এবং শিক্ষকদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি জানিয়ে সংবর্দ্ধনা প্রদান এবং স্মারক উপহার ও সার্টিফিকেট প্রদান বিপুল উৎসাহের সঞ্চার করে। একইসঙ্গে এর সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য কার্যক্রম শিশু-কিশোরদের কেবল লেখাপড়া বা ভালো রেজাল্ট করার প্রতিই আগ্রহী করে তোলে না, তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্পর্শ লাভ করে। দেশপ্রেম, মুক্তচিন্তা, বিজ্ঞান মনস্কতা এবং চিত্রকলা, সঙ্গীত, রচনা প্রতিযোগিতা, উপস্থিত বক্তৃতা ইত্যাদি শিশু-কিশোরদের কাছে অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনকে জনপ্রিয় করে তোলে।

 

লৌহজং কেন্দ্র এই ২০০০ সালেই এই জেলার প্রথম বেসরকারি পর্যায়ে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করে। আমরা তো ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের কাজ সরকার শুরু করার আগেই শুরু করেছিলাম। ২০০১ সালেই নূহ-উল-আলম লেনিন নিজের অর্থে তার পৈত্রিক বাড়িতে পূর্বের ছাপড়া ঘরটি ভেঙে বর্তমানে খ প্যাটার্নের পাঠাগার ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ভবনটি নির্মাণ করে দেন। ২০০২ সাল থেকে এখানেই শুরু হয় অগ্রসর বিক্রমপুর সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কার্যক্রম। গড়ে ওঠে সঙ্গীত ও নৃত্য শিক্ষার স্কুল।

শুরুতে কোনো গঠনতন্ত্র বা নিয়মাবলী প্রণয়ন না করেই লৌহংজ-এ অধ্যাপক আলম শহীদ ও আবুল কালাম আজাদকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে একটি টিম গঠন করা হয়। পরবর্তীতে গিয়াসউদ্দিন খানকে আহ্বায়ক ও আবুল কালাম আজাদকে সদস্য সচিব করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। বস্তুত এই কমিটিতে নূহ-উল-আলম লেনিন কোনো সদস্য ছিলেন না। লৌহজং-এর অভিজ্ঞতায় উৎসাহিত হয়ে রামপাল কলেজের অধ্যাপক আলম শহীদ ও বর্তমানে অধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর হাসান মুন্সিগঞ্জে অগ্রসর বিক্রমপুরের কার্যক্রম শুরু করেন। ২০০২ সালে তাদের ছাত্র জামিল সিদ্দিকী বাপ্পীকে আহ্বায়ক ও মাহমুদ দিদারকে সদস্য সচিব করে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়। পরবর্তী কালে ২০০৪ সালে মোঃ জাহাঙ্গীর হাসানকে সভাপতি ও মোঃ আবু হানিফকে সাধারণ সম্পাদক করে মুন্সিগঞ্জ কেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়। তাদের পরিকল্পিত, সুন্দর সংগঠিত কার্যক্রম জেলা সদর ও সদর উপজেলায় বেশ প্রভাব বিস্তার করে। গড়ে ওঠে শক্তিশালী সংগঠন। এই অভিজ্ঞতার আলোকেই সংগঠকদের মাথায় চিন্তা আসে অগ্রসর বিক্রমপুরের কার্যক্রমকে বিক্রমপুরের সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে হবে। এই লক্ষ্যে প্রথমে জনাব এনামুল হক চৌধুরী খসরুকে আহ্বায়ক ও আলম শহীদকে সদস্য সচিব করে একটি ছোট্ট কেন্দ্রীয় টিম গঠন করা হয়। টিম গঠন করা হলেও বিক্রমপুরব্যাপী সংগঠন সম্প্রসারণের দায়ভার শেষ পর্যন্ত নূহ-উল-আলম লেনিনকেই গ্রহণ করতে হয়। শ্রীনগরেও আহ্বায়ক কমিটি গঠন এবং কৃতি শিক্ষার্থী সম্মাননা ও পাঠাগার স্থাপন করা হয়। প্রথম উদ্যোক্তাদের অন্যতম মাহমুদ হাদীকে আহ্বায়ক এবং প্রাণকৃষ্ণ বাড়ৈকে সদস্য সচিব করে শ্রীনগর উপজেলা কেন্দ্রের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়। পরবর্তীতে ডা. আবদুল মালেক ভূঞাকে সভাপতি ও মামুদ হাদীকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত হয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি। পরবর্তীতে ডা. মালেক ভূঞা, মুজিব রহমান প্রমুখ। উদ্যোগ নেওয়া হয় সিরাজদিখান উপজেলায় সংগঠন গড়ে তোলার। প্রথমে মুক্তিযোদ্ধা আলী আহমদ বাচ্চুকে আহ্বায়ক ও ইসলাম শেখকে সদস্য সচিব করে আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়। পরে জনাব শামসুল হককে সভাপতি এবং ইসলাম শেখকে সাধারণ সম্পাদক করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়।

সংগঠনের এই ক্রম বিস্তৃতি ও বহুমুখী কার্যক্রমকে সমন্বিত এবং সুসংগঠিত করার উদ্দেশ্যে একটি গঠনতন্ত্র প্রণয়ন এবং কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের তীব্র তাগিদ সৃষ্টি হয়। এই পটভূমিতেই ২০০৮ সালে অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের একটি গঠনতন্ত্র প্রণয়ন ও কেন্দ্রীয় পর্ষদ গঠনের উদ্দেশ্যে কনকসারে দুদিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় একটি গঠনতন্ত্র গ্রহণ ও নূহ-উল-আলম লেনিনকে সভাপতি, অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলমকে সহ-সভাপতি, এনামুল হক চৌধুরী খসরুকে সাধারণ সম্পাদক, নজরুল ইসলামকে সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং সুধাংশু কুমার দাসকে কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত করে একটি কেন্দ্রীয় পর্ষদ গঠিত হয়। ৩৭ সদস্যের কমিটি গঠনের বিধান থাকলেও এতদিন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয় নি।

 

প্রিয় প্রতিনিধি ভাই ও বোনেরা,

কেন্দ্রীয় পর্ষদ গঠিত হওয়ায় অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। তবে সংগঠনের নিয়মিত কার্যক্রম উপজেলা শাখা বা উপজেলা কেন্দ্রের নেতৃত্বেই পরিচালিত হচ্ছে। আমাদের প্রতিষ্ঠানের সাংগঠনিক বৈশিষ্ট্য ও কার্যক্রমের ধারা অনুযায়ী উপজেলা শাখার ওপরই প্রধান দায়িত্ব ন্যস্ত। তারাই প্রধানত সংগঠনের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

 

কিন্তু ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় পর্ষদের উদ্যোগেও গুরুত্বপূর্ণ কতগুলো কর্মকা- পরিচালিত হয়েছে এবং হচ্ছে।

বিক্রমপুরে একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন আমাদের সভাপতি নূহ-উল-আলম লেনিন দীর্ঘদিন যাবত লালন করছিলেন। এই জাদুঘর গড়ার লক্ষ্য থেকেই ২০০১ সালে তার পৈত্রিক ভিটায় এল প্যাটার্নের টিন শেড নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০০১ সালের অক্টোবরের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ফলে সেই জাদুঘর গড়ে তোলার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

২০০৯ সালেই আমরা বালাশুরের যদুনাথ রায়ের এই পরিত্যক্ত বাড়ির সন্ধান পাই এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় এখানে জাদুঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেই।

এখানে একটি জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ে নূহ-উল-আলম লেনিন সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করেন এবং তাদের সম্মতি নিয়েই কার্যক্রম শুরু করেন। অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে সরকার এই বাড়ী ও পুকুর অগ্রসর বিক্রমপুরকে লিজ প্রদান করে এবং জাদুঘর নির্মাণের অনুমতি দেয়।

২৯ মে ২০১০ সালে জাদুঘরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। ২৮ মে, ২০১৩ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে জাদুঘরের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। ইতোমধ্যে এখানে একটি গেস্ট হাউজ নির্মাণের কাজও প্রায় সমাপ্তির পথে। ২০ জুন, ২০১৪ সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর কর্তৃক জাদুঘরের দ্বারোদ্ঘাটন ছাড়াও এখানে একটি নৌকা জাদুঘর স্থাপনের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে জাদুঘর নির্মিত হলেও এর বিভিন্ন গ্যালারি সমূহ সাজসজ্জা ও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করার জন্য জনতা ব্যাংক ১০ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করে। অবশিষ্ট অর্থায়ন আমাদেরকেই করতে হয়েছে।

আপনারা জানেন যদুনাথ রায়ের এই বাড়িটি অর্পিত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত। আইনানুগভাবে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনকে তা লিজ প্রদান করে। আমরা এই বাড়িটির দায়িত্বভার প্রশাসনের কাছ থেকে বুঝে নেওয়ার সময় দেখতে পাই এর কিছু অংশ অবৈধ দখলদারদের দখলে। প্রশাসন তাদের উৎখাত করার উদ্যোগ নেয়। তখনই এই দখলদার ও তার পৃষ্ঠপোষক কতিপয় স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি নূহ-উল-আলম লেনিনের বিরুদ্ধে ‘অবৈধভাবে হিন্দু সম্পত্তি দখলের’ অভিযোগ এনে জঘন্য মিথ্যা প্রচারণায় মেতে ওঠে। পত্র-পত্রিকায় মনগড়া খবর ছাপিয়ে নূহ-উল-আলম লেনিনের চরিত্র হনন ও তার সম্মানহানির চেষ্টা করা। আমরা এই অপচেষ্টা রুখে দাঁড়াই। স্থানীয় জনসাধারণ, বুদ্ধিজীবী, হিন্দু সম্প্রদায় এবং বিশেষত আওয়ামী লীগ দখলদার ও তার মদতদাতাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে রুখে দাঁড়ানোয় এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন অপপ্রচারকারীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, অন্যদিকে বাড়িটি দখলমুক্ত হয়। নূহ-উল-আলম লেনিন একটি মানহানির মামলাও করেছিলেন।

যে সংবাদপত্রটি বিভ্রান্ত হয়ে অপপ্রচারে নেমেছিলে তারা যখন প্রকৃত অবস্থা জানতে পেরে অপপ্রচার বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেয়, নূহ-উল-আলম লেনিন তখন মানহানির মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন।

কিন্তু অন্যদিকে জনৈক সালাম আজাদ হাইকোর্টে সরকার ও নূহ-উল-আলম লেনিনের বিরুদ্ধে রিট মামলা দায়ের করে। আপিল বিভাগে তার আবেদন কার্যকর না করার নির্দেশ দিয়েছে। মামলাটি এখন চূড়ান্ত শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। তবে বস্তুত নূহ-উল-আলম লেনিনের চরিত্রহানির অপচেষ্টাটি ব্যর্থ হয়েছে।

 

প্রিয় বন্ধুগণ,

অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব বিক্রমপুর অঞ্চলে প্রতœতাত্ত্বিক অনুসন্ধান, খনন ও গবেষণা কার্যক্রমের অভূতপূর্ব সাফল্য। দেশের খ্যাতিমান প্রতœতত্ত্ববিদ ও উয়ারী-বটেশ্বরে বাংলাদেশের প্রাচীনতম দূর্গনগরী ও প্রতœ নিদর্শনের আবিস্কারক জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতœতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সুফী মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বাধীন ঐতিহ্য অন্বেষণের সঙ্গে অগ্রসর বিক্রমপুরের যৌথ কার্যক্রম বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছে। প্রতœতাত্ত্বিক না হয়েও ঐতিহ্য অন্বেষণের কাজে সরকারি সহযোগিতা আদায় করে দিতে গিয়ে ড. নূহ-উল-আলম লেনিন বিক্রমপুর অঞ্চলে প্রতœতাত্ত্বিক অনুসন্ধান ও উৎখননের জন্য ঐতিহ্য অন্বেষণকে উদ্বুদ্ধ করেন। বস্তুত তার আহ্বানে সাড়া দিয়েই ড. সুফী মোস্তাফিজুর রহমান বিক্রমপুর অঞ্চলে প্রতœতাত্ত্বিক খনন কাজ চালাতে এগিয়ে আসেন। জনাব নূহ-উল-আলম লেনিনের চেষ্টার ফলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এ কাজে সীমিত আর্থিক সহায়তাদান ও খননের অনুমতি প্রদানে সম্মতি দেয়। ২০১০ সাল থেকে মুন্মিগঞ্জ সদর উপজেলায় খনন কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের জন্মভিটার সন্নিকটে রঘুরামপুরে একটি বৌদ্ধ বিহারের অংশ বিশেষ মাটির তলা থেকে উন্মোচিত করা সম্ভব হয়েছে। বৈজ্ঞানিক কার্বন-১৪ পরীক্ষায় প্রামণিত হয়েছে এই বিহারটি ১ হাজার বছরের প্রাচীন। প্রতœতত্ত্ববিদরা মনে করেন এটিই হচ্ছে ঐতিহাসিক বিক্রমপুরী বিহার, যেখানে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান অধ্যয়ন এবং অধ্যাপনা করেছেন। বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাসে এই আবিষ্কার একটি নতুন সংযোজন। ইতোমধ্যে বিক্রমপুরে এই বৌদ্ধবিহার আবিষ্কারের বিষয়টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পাঠক্রমে (ক্লাস ফাইভ ও ক্লাস নাইন)-এর পাঠ্য পুস্তকে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

এই কাজটি করতে গিয়ে আবিষ্কৃত হয়েছে সম্ভবত বাংলাদেশের প্রাচীনতম নৌকা, কাঠের ভাস্কর্য, বৌদ্ধ দেবী মুর্ত্তি, টেরাকোটাসহ নানারকম মূল্যবান প্রতœ নিদর্শন।

সবচেয়ে আনন্দের বিষয় ২০১৩ সালে শুরু করে ২০১৪ এবং এবার ২০১৫ সালের খননের ফলে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার নাটেশ্বরে আবিষ্কৃত হয়েছে প্রাচীন বৌদ্ধ মন্দির কমপ্লেক্স বা মন্দির নগরী। এ বছর খনন ও গবেষণা কাজে অগ্রসর বিক্রমপুরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চীনের উনান প্রদেশের চার সদস্যের একটি প্রতœতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞ দল। বলাবাহুল্য, প্রকল্পটি অগ্রসর বিক্রমপুরের হলেও খনন ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন ড. সুফী মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে ঐতিহ্য অন্বেষণ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়,স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতœতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীগণ। নাটেশ্বরে খনন,গবেষণা ও সংরক্ষণের বিষয়ে চীনা সহযোগিতা সম্পর্কে এ বছর অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন ও চীনের উনান প্রাদেশিক প্রতœতাত্ত্বিক বিভাগের একটি সহযোগিতা-সম্মতিপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে। আমরা আশা করছি আগামী বছরগুলোতে এই সহযোগিতার ক্ষেত্রে আরও প্রসারিত হবে এবং আবিষ্কৃত বৌদ্ধ স্থাপনাসমূহকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বৌদ্ধ সম্প্রদায় ও পর্যটকদের কাছে নাটেশ্বর আকর্ষণীয় দর্শণীয় স্থানে পরিণত হবে।

 

সম্পানিত প্রতিনিধি ভাই ও বোনেরা,

বিক্রমপুরে প্রতœতাত্ত্বিক খনন, অনুসন্ধান ও গবেষণায় ড. সুফী মোস্তাফিজুর রহমান ও ঐতিহ্য অন্বেষণ এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্ররা যে অবদান রেখেছেন আজকের এই সম্মিলনী থেকে আমরা তাদের অভিনন্দন জানাচ্ছি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

আমি এই সুযোগে বিক্রমপুর জাদুঘর প্রতিষ্ঠা এবং অগ্রসর বিক্রমপুরের অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ, নকশা, সাজসজ্জা, পরিকল্পনা, প্রদর্শনীর কাজে যারা সাহায্য সহযোগিতা করেছেন, পরামর্শ দিয়েছেন, বিশেষ করে বিশিষ্ট স্থপতি কবি রবিউল হুসাইন, নাজনীন হক মিমি, কবি তারিক সুজাতকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রকাশ করছি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

আমাদের সংগঠনের অন্যতম নেতা প্রকৌশলী ঢালী আবদুল জলিল বা অন্য যে সব সহকর্মী এ ব্যাপারে উদ্যোগী ভূমিকা পালন ও অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তাদেরকেও আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। তবে তারা এ কাজটি করেছেন সংগঠনের কর্মী হিসেবেই। এ কারণে আমরা আমাদের বেশি আত্মপ্রশংসা থেকে বিরত থাকাই সমীচিন মনে করছি।

 

প্রতিনিধিবৃন্দ,

আপনারা জেনে খুশী হবেন, মুন্সিগঞ্জের মালপাড়ায় সরকারের একটি পরিত্যক্ত এবং বাস অনুপযোগী ভবনের অংশ বিশেষকে আমরা সংস্কার করতে সক্ষম হয়েছি। এর পাশে আমরা আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণ করেছি। মালপাড়ার এই ভবনটির নামকরণ করা হয়েছে অগ্রসর বিক্রমপুর ভবন। ইতোমধ্যেই সংগঠনের সভাপতি নূহ-উল-আলম লেনিন ভবনটি উদ্বোধন করেছেন। ভবনটি নির্মাণ ও সংস্কারের যাবতীয় অর্থ সংগ্রহ এককভাবে নূহ-উল-আলম লেনিন করেছেন। আমরা এ জন্য তাকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

এই ভবনে কেন্দ্রীয় পর্ষদের উদ্যোগে ‘জ্ঞানপীঠ’ স্বদেশ গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হবে। এই গবেষণা কেন্দ্রে ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, অর্থনীতি এবং প্রতœতাত্ত্বিক গবেষণার সুযোগ থাকবে। ইতোমধ্যে ড. নূহ-উল-আলম লেনিনকে সভাপতি এবং প্রফেসর সুখেন ব্যানার্জীকে কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব দিয়ে গবেষণা পরিচালনার একটি প্রাথমিক কমিটি করা হয়েছে। বর্তমান সম্মিলনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে গবেষণা কেন্দ্রটির উদ্বোধন ও পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা কমিটি করা হবে।

মুন্সিগঞ্জের মালপাড়াস্থ ‘অগ্রসর বিক্রমপুর ভবনে’ ইতোমধ্যে মুন্সিগঞ্জ কেন্দ্রের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

আপনারা জানেন লৌহজং-এর কনকসারে অগ্রসর বিক্রমপুরের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও মুক্তমঞ্চ নির্মাণের কাজ প্রায় সম্পন্ন হওয়ার পথে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে একটি চারতলা ভবনের মালিক হতে চলেছে অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন। এখানে অতিথি, গবেষক ও ফেলোদের থাকার ব্যবস্থাও হবে। একই প্রাঙ্গণে ‘মুক্তিযুদ্ধ গ্রন্থ জাদুঘর’ উদ্বোধনের প্রস্তুতিও প্রায় শেষ পর্যায়ে। আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের মুক্তমঞ্চ, কেন্দ্রীয় কার্যালয়, রহমান মাস্টার গণ পাঠাগার, আর্কাইভস ও মুক্তিযুদ্ধ গ্রন্থ জাদুঘরের জন্য নহ-উল-আলম লেনিনের ভাই-বোনেরা পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া তাদের বাস্তুভিটার ১৮ শতাংশ জমি অগ্রসর বিক্রমপুরকে দান করেছেন। প্রথমে ১০ শতাংশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে অগ্রসর বিক্রমপুরের এ সব স্থাপনার স্থান সংকুলান না হওয়ায় তারা চূড়ান্তভাবে আরও ৮ শতাংশসহ মোট ১৮ শতাংশ দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আজকের এই সম্মিলনীর পক্ষ থেকে আমরা জমিদাতা নূহ-উল-আলম লেনিনের ভাই-বোন ও পরিবারের সদস্যদের অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আপনারা জেনে খুশী হবেন অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও মুক্তিযুদ্ধ গ্রন্থ জাদুঘরের উদ্বোধন করা হবে।

 

প্রতিনিধি ভাই ও বোনেরা,

আমি আমার কার্যবিবরণী শেষ করে এনেছি। আপনাদের অবগতির জন্য আর একটি সুসংবাদ জানাতে চাই। আপনার শুনেছেন রঘুরামপুরে আমরা বৌদ্ধ বিহার আবিষ্কার করেছি। এই বৌদ্ধবিহার সংলগ্ন স্থানে একটি সাইট মিউজিয়াম এবং পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের নামে ২৪.৬০ শতাংশ জমি ক্রয় করা হয়েছে। জমি ক্রয়ের জন্য আমাদের বিক্রমপুরের গর্বিত সুসন্তান লৌহজং উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান জনাব ওসমান গণি তালুকদার ৩৩ লক্ষ টাকা ও আই.এফ.আই.সি ব্যাংক ২২ লক্ষ টাকা দান করেছেন। রেজিস্ট্রেশন ফিস সহ জমি ক্রয়ে আমাদের সর্বমোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা। জমি ক্রয় বাবদ ২৫ লক্ষ টাকা আমাদের সভাপতি সাহেব ঋণ করেছেন। চেষ্টা করা হচ্ছে আরও অনুদান সংগ্রহ করে এই ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করা। ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে সাইট মিউজিয়াম নির্মাণের প্রকল্প প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষে এই প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে, এটি হবে রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী এবং মুন্সিগঞ্জ জেলায় আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র।

প্রসঙ্গত আমাদের সকল কাজে সহায়তার জন্য আমরা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় অর্থমন্ত্রী, মাননীয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, মাননীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টাকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমরা আমাদের জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন উপজেলা প্রশাসনকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। একইসঙ্গে সমাজের যারা আমাদের কর্মকা- নানাভাবে সাহায্য সহযোগিতা করছেন, জাদুঘরে বিভিন্ন দর্শনীয় বস্তু দিয়েছেন, শ্রম ও মেধা দিয়েছেন, তাদের সবাইকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

আমরা অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের একটি ত্রৈমাসিক পত্রিকা প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যে ‘অগ্রসর বিক্রমপুর’ শীর্ষক গবেষণাধর্মী ত্রৈমাসিকটির দুটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। আমরা প্রকাশনার কাজে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

 

সংগ্রামী প্রতিনিধি ভাই ও বোনেরা,

আমি আমার সংক্ষিপ্ত কার্যবিবরণী আপনাদের কাছে পেশ করলাম। এখানে হয়তো অনেক কথা, অনেকের অবদান বা কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করা হয়নি। এটা আমার ইচ্ছাকৃত না। তবুও আমি এ জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

আসলে এই প্রতিবেদনটি আমার পেশ করার কথা ছিলনা। এখনো প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সাধারণ সম্পাদক জনাব এনামুল হক চৌধুরী খসরু। এই প্রতিষ্ঠানের জন্য তার অবদান আমরা দ্বিধাহীন চিত্তে স্মরণ করছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য সাধারণ সম্পাদক মহোদয় দেড় বৎসরাধিক কাল তার দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রয়েছেন। এ ব্যাপারে সভাপতির ব্যক্তিগত উদ্যোগের পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয় নি। সংগঠনে ব্যক্তিগত কারণে তার নিষ্ক্রিয়তার জন্যই আমাকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করতে হয়। এ কাজের জন্য আমি নিজেকে যথেষ্ট যোগ্য মনে করিনা। কিন্তু সংগঠনের স্বার্থে এবং সহকর্মীদের সহযোগিতায় আমাকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমার ভুল ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা তাই আপনারা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

তবে এখন পর্যন্ত এটাই বাস্তবতা যে, অগ্রসর বিক্রমপুরের সভাপতির দায়িত্বের পাশাপাশি সাধারণ সম্পাদকেরও অনেক দায়িত্ব এককভাবে নূহ-উল-আলম লেনিন পালন করে আসছেন। এটা তার গুণ হতে পারে। কিন্তু এটা একই সঙ্গে আমাদেরও সীমাবদ্ধতা। এভাবে একজনের উপর পুরো দায়ভার চাপানো না সংগঠনের জন্য, না ব্যক্তির জন্য কল্যাণকর হতে পারে না।

আশা করি এই সম্মিলনীর ভিতর দিয়ে আমাদের এই দুর্বলতা আমরা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবো। একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি ও নতুন নেতৃত্বে নির্বাচন করে, আমরা যদি নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করি, তাহলে এই সংগঠন কেবল শক্তিশালীই হবে না; ভবিষ্যতে কারও অনুপস্থিতিও সংগঠনের কাজের ধারাবাহিকতা ক্ষুণœ করতে পারবে না।

বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত প্রতিনিধি ভাই ও বোনেরা, সম্মিলন অনুষ্ঠানের নানা ত্রুটি বিচ্যুতি আমাদের হতে পারে। আপনাদের কষ্ট হতে পারে। আশা করি সব কিছু ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখে আমাদের সম্মিলনীকে আপনারা চিরস্মরণীয় করে রাখবেন। আমাদের সমবেত কাজের ভিতর দিয়ে আমরা সামাজিক উদ্যোগের দিক থেকে সারা দেশের সামনে নতুন নতুন নজির স্থাপন করতে সক্ষম হবো।

আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। সবাই সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন। অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের জয় হোক।

সম্মেলনের অনুষ্ঠান সূচি

প্রথম পর্ব : সকাল ৯.৩০টা Ñ ২.০০টা

সঞ্চালক : আলম শহীদ

১. রেজিস্ট্রেশন ও সকালের নাস্তা/চা         : সকাল ৯.০০-১০.০০টা

২. জাতীয় এবং সাংগঠনিক পতাকা উত্তোলন    : সকাল ১০.৩০টা

জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেনÑ নূহ-উল-আলম লেনিন

সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করবেনÑ ডা. রশিদী মাহবুব

৩. মঞ্চে আসন গ্রহণ                  : সকাল ১০.৩৫টা

বিদায়ী কমিটির সকল সদস্যবৃন্দ

৪. সভাপতি ঘোষণা : সভাপতিত্ব করবেন : নূহ-উল-আলম লেনিন

৫. শোক প্রকাশ : ১ মিনিট নীরবতা পালন

৬. কর্ম অধিবেশন : ক) স্বাগত ভাষণÑ প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক : প্রফেসর ডা. রশিদী মাহবুব

খ) সংগঠনের কার্যক্রম সম্পর্কিত প্রতিবেদন : মো. নজরুল ইসলাম

৭. মুক্ত আলোচনা

৮. সভাপতির বক্তব্য

 

মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতি : ২.০০Ñ২.৪৫টা

 

দ্বিতীয় অধিবেশন : ২.৪৬Ñ৪টা

১. সভাপতিত্ব : প্রফেসর ডা. রশিদী মাহবুব

২. গঠনতন্ত্র সংশোধন : ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা : নূহ-উল-আলম লেনিন

৩. নতুন কমিটি ঘোষণা : নূহ-উল-আলম লেনিন

৪. সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান : বিকেল ৪.১০Ñ৫.০০টা

 

কার্যক্রমের প্রতিবেদন

শ্রদ্ধেয় সভাপতি,

সম্মানিত অতিথিবৃন্দ, কেন্দ্রীয় পর্ষদের নেতৃবৃন্দ এবং সমবেত প্রতিনিধি ভাই ও বোনেরা, আপনারা আমার সশ্রদ্ধ শুভেচ্ছা গ্রহণ করুন। আমি আমার বক্তব্যের শুরুতেই স্বাধীনতার এই মাসে সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী ও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে শহীদ চার জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম. মনসুর আলী ও এএইচএম কামারুজ্জামানের পবিত্র স্মৃতি। সুগভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিয়ে স্মরণ করছি মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লক্ষ শহীদের অমলিন আত্মদানের স্মৃতি। আমি বিশেষভাবে স্মরণ করছি বিক্রমপুর অঞ্চলের সেই সব বীর শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতিÑযাদের আত্মদানে আমাদের প্রিয় বিক্রমপুর গৌরবান্বিত হয়েছে।

 

যে স্থানটিতে আজ আমরা সম্মিলনি উপলক্ষে মিলিত হয়েছি, সেই স্থানটি অর্থাৎ এই বিশাল বাড়ি প্রাচীন প্রাসাদোপম ভবন, নয়নাভিরাম দুটি দীঘি ইত্যাদির এক সময়ের মালিক ছিলেন শ্রী যদুনাথ রায় ও তার পরিবার। বেদনাদায়ক সত্য হলো ১৯৬৫ সালের পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের পর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর প্ররোচনায় জীবন ও সম্ভ্রম রক্ষার জন্য তারা মাতৃভূমি বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় গ্রহন করতে বাধ্য হন। এই মর্মান্তিক ঘটনা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য অসীম লজ্জার। আমি আজ এই সম্মিলনী থেকে ইতোমধ্যে প্রয়াত যদুনথা রায় ও তার পরিবারের সদস্যদের কাছে আমাদের অপরিসীম বেদনাবোধ, লজ্জা, দীনতা প্রকাশ করছি। তাদের পরিত্যক্ত বাড়িতেই আমরা বিক্রমপুর জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছি। এ জন্য তাদের জীবিত উত্তরসূরীদের কাছে জানাচ্ছি কৃতজ্ঞতা। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এই বাড়িটি ও জলাশয় সমূহের ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ায় আমরা সরকারের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

 

আমাদের আজকের অনুষ্ঠান হচ্ছে রাঢ়িখাল ইউনিয়নে। আপনারা জানেন রাঢ়িখাল আজ জগৎবিখ্যাত হয়ে আছে খ্যাতিমান বিজ্ঞানি স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর পৈত্রিক নিবাস হিসেবে। এই ইউনিয়নেই জন্ম নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত ভাষা বিজ্ঞানী, প্রথা বিরোধী লেখক, গবেষক ও কবি হুমায়ূন আজাদ। আজকের সম্মিলন থেকে আমরা দুই প্রজন্মের এই দুই খ্যাতিমান বাঙালির প্রতি জানাচ্ছি বিন¤্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

 

সংগ্রাম প্রতিনিধিবৃন্দ,

আপনারা জানেন,আমাদের প্রাণপ্রিয় প্রতিষ্ঠান অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাকাল ২৪ এপ্রিল ১৯৯৮। ইতোমধ্যে আমরা ১৬ টি বছর অত্রিকম করে এসেছি। অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের খ্যাতি এখন আন্তর্জাতিক পরিম-লেও মর্যাদার আসন পেয়েছে। একটি স্থানীয় বা আঞ্চলিক সামাজিক-সংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে আমরা যে সুনাম,মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছি, বাংলাদেশে সম্ভবত এর কোনো দ্বিতীয় নজির নেই। এই অর্জনের জন্য আমরা গৌরবান্বিত বোধ করছি। আর এই গৌরব অর্জনের জন্য আমি অগ্রসর বিক্রমপুর কেন্দ্রীয় পর্ষদের পক্ষ থেকে আপনাদেরকে জানাচ্ছি বাসন্তি অভিনন্দন। আমরা জানি যার অবদানের জন্য আজ আমাদের সংগঠন আজইে মর্যাদার আসনে অভিষিক্ত হতে পেরেছে, তিনি হচ্ছেন এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাণ পুরুষ ড. নূহ-উল-আলম লেনিন। আসুন,আমরা সবাই মিলে তাকে জানাই প্রাণঢালা অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা। কামনা করি তার সুস্থ, সক্রিয় দীর্ঘ জীবন।

 

কোন পটভূমিতে অগ্রসর বিক্রমপুর গড়ে উঠেছিল তা আপনাদের জানা আছে।

১৯৯৭ সালে লৌহজং এলাকার কয়েকজন বিশিষ্টজন ও তরুণ নূহ-উল-আলম লেনিনের নেতৃত্বে বন্যাত্রাণের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনের কাজের ক্ষেত্রেও তারা সক্রিয় ছিলেন। বলা যায় বন্যা-উত্তর পুনর্বাসনের কাজের সময়ই একটি অরাজনৈতিক সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তোলার তাগিদ সৃষ্টি হয়। সবাই মিলে নূহ-উল-আলম লেনিনকে এ ধরনের একটি সংগঠন গড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানায়।

আর এই অনুরোধে সাড়া দিয়েই তিনি ১৯৯৮ সালের ২৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠা করেন অগ্রসর বিক্রমপুর। ১৯৯৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর দুঃস্থ ছাত্রদের মধ্যে বই বিতরণ ও সেলাই মেশিন বিতরণের মাধ্যমে প্রথম আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

সেই দিনের যাত্রা শুরুর পর আর আমরা পেছনে ফিরে তাকাইনি। সংগঠনটি লৌহজং-উপজেলার সীমানা ছাড়িয়ে সম্প্রসারিত হয়েছে প্রথমে মুন্সিগঞ্জে, পরে শ্রীনগর এবং সর্বশেষ সিরাজদিখান উপজেলায়। সম্প্রসারণের প্রধান কারণ ও আকর্ষণ ছিল অগ্রসর বিক্রমপুর লৌহজং কেন্দ্র কর্তৃক প্রতিবছর ‘কৃতী শিক্ষার্থী ও গুণীজন সংবর্দ্ধনা’ অনুষ্ঠানের নিয়মিত আয়োজনের চমৎকারিত্ব। কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী করে তোলা, পরীক্ষায় তাদের এবং শিক্ষকদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি জানিয়ে সংবর্দ্ধনা প্রদান এবং স্মারক উপহার ও সার্টিফিকেট প্রদান বিপুল উৎসাহের সঞ্চার করে। একইসঙ্গে এর সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য কার্যক্রম শিশু-কিশোরদের কেবল লেখাপড়া বা ভালো রেজাল্ট করার প্রতিই আগ্রহী করে তোলে না, তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্পর্শ লাভ করে। দেশপ্রেম, মুক্তচিন্তা, বিজ্ঞান মনস্কতা এবং চিত্রকলা, সঙ্গীত, রচনা প্রতিযোগিতা, উপস্থিত বক্তৃতা ইত্যাদি শিশু-কিশোরদের কাছে অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনকে জনপ্রিয় করে তোলে।

 

লৌহজং কেন্দ্র এই ২০০০ সালেই এই জেলার প্রথম বেসরকারি পর্যায়ে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করে। আমরা তো ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের কাজ সরকার শুরু করার আগেই শুরু করেছিলাম।   ২০০১ সালেই নূহ-উল-আলম লেনিন নিজের অর্থে তার পৈত্রিক বাড়িতে পূর্বের ছাপড়া ঘরটি ভেঙে বর্তমানে খ প্যাটার্নের পাঠাগার ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ভবনটি নির্মাণ করে দেন। ২০০২ সাল থেকে এখানেই শুরু হয় অগ্রসর বিক্রমপুর সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কার্যক্রম। গড়ে ওঠে সঙ্গীত ও নৃত্য শিক্ষার স্কুল।

 

শুরুতে কোনো গঠনতন্ত্র বা নিয়মাবলী প্রণয়ন না করেই লৌহংজ-এ অধ্যাপক আলম শহীদ ও আবুল কালাম আজাদকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে একটি টিম গঠন করা হয়। পরবর্তীতে গিয়াসউদ্দিন খানকে আহ্বায়ক ও আবুল কালাম আজাদকে সদস্য সচিব করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। বস্তুত এই কমিটিতে নূহ-উল-আলম লেনিন কোনো সদস্য ছিলেন না। লৌহজং-এর অভিজ্ঞতায় উৎসাহিত হয়ে রামপাল কলেজের অধ্যাপক আলম শহীদ ও বর্তমানে অধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর হাসান মুন্সিগঞ্জে অগ্রসর বিক্রমপুরের কার্যক্রম শুরু করেন। ২০০২ সালে তাদের ছাত্র জামিল সিদ্দিকী বাপ্পীকে আহ্বায়ক ও মাহমুদ দিদারকে সদস্য সচিব করে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়। পরবর্তী কালে ২০০৪ সালে মোঃ জাহাঙ্গীর হাসানকে সভাপতি ও মোঃ আবু হানিফকে সাধারণ সম্পাদক করে মুন্সিগঞ্জ কেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়। তাদের পরিকল্পিত, সুন্দর সংগঠিত কার্যক্রম জেলা সদর ও সদর উপজেলায় বেশ প্রভাব বিস্তার করে। গড়ে ওঠে শক্তিশালী সংগঠন। এই অভিজ্ঞতার আলোকেই সংগঠকদের মাথায় চিন্তা আসে অগ্রসর বিক্রমপুরের কার্যক্রমকে বিক্রমপুরের সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে হবে। এই লক্ষ্যে প্রথমে জনাব এনামুল হক চৌধুরী খসরুকে আহ্বায়ক ও আলম শহীদকে সদস্য সচিব করে একটি ছোট্ট কেন্দ্রীয় টিম গঠন করা হয়। টিম গঠন করা হলেও বিক্রমপুরব্যাপী সংগঠন সম্প্রসারণের দায়ভার শেষ পর্যন্ত নূহ-উল-আলম লেনিনকেই গ্রহণ করতে হয়। শ্রীনগরেও আহ্বায়ক কমিটি গঠন এবং কৃতি শিক্ষার্থী সম্মাননা ও পাঠাগার স্থাপন করা হয়। প্রথম উদ্যোক্তাদের অন্যতম মাহমুদ হাদীকে আহ্বায়ক এবং প্রাণকৃষ্ণ বাড়ৈকে সদস্য সচিব করে শ্রীনগর উপজেলা কেন্দ্রের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়। পরবর্তীতে ডা. আবদুল মালেক ভূঞাকে সভাপতি ও মামুদ হাদীকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত হয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি। পরবর্তীতে ডা. মালেক ভূঞা, মুজিব রহমান প্রমুখ। উদ্যোগ নেওয়া হয় সিরাজদিখান উপজেলায় সংগঠন গড়ে তোলার। প্রথমে মুক্তিযোদ্ধা আলী আহমদ বাচ্চুকে আহ্বায়ক ও ইসলাম শেখকে সদস্য সচিব করে আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়। পরে জনাব শামসুল হককে সভাপতি এবং ইসলাম শেখকে সাধারণ সম্পাদক করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়।

সংগঠনের এই ক্রম বিস্তৃতি ও বহুমুখী কার্যক্রমকে সমন্বিত এবং সুসংগঠিত করার উদ্দেশ্যে একটি গঠনতন্ত্র প্রণয়ন এবং কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের তীব্র তাগিদ সৃষ্টি হয়। এই পটভূমিতেই ২০০৮ সালে অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের একটি গঠনতন্ত্র প্রণয়ন ও কেন্দ্রীয় পর্ষদ গঠনের উদ্দেশ্যে কনকসারে দুদিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় একটি গঠনতন্ত্র গ্রহণ ও নূহ-উল-আলম লেনিনকে সভাপতি, অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলমকে সহ-সভাপতি, এনামুল হক চৌধুরী খসরুকে সাধারণ সম্পাদক, নজরুল ইসলামকে সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং সুধাংশু কুমার দাসকে কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত করে একটি কেন্দ্রীয় পর্ষদ গঠিত হয়। ৩৭ সদস্যের কমিটি গঠনের বিধান থাকলেও এতদিন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয় নি।

 

প্রিয় প্রতিনিধি ভাই ও বোনেরা,

কেন্দ্রীয় পর্ষদ গঠিত হওয়ায় অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। তবে সংগঠনের নিয়মিত কার্যক্রম উপজেলা শাখা বা উপজেলা কেন্দ্রের নেতৃত্বেই পরিচালিত হচ্ছে। আমাদের প্রতিষ্ঠানের সাংগঠনিক বৈশিষ্ট্য ও কার্যক্রমের ধারা অনুযায়ী উপজেলা শাখার ওপরই প্রধান দায়িত্ব ন্যস্ত। তারাই প্রধানত সংগঠনের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

 

কিন্তু ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় পর্ষদের উদ্যোগেও গুরুত্বপূর্ণ কতগুলো কর্মকা- পরিচালিত হয়েছে এবং হচ্ছে।

বিক্রমপুরে একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন আমাদের সভাপতি নূহ-উল-আলম লেনিন দীর্ঘদিন যাবত লালন করছিলেন। এই জাদুঘর গড়ার লক্ষ্য থেকেই ২০০১ সালে তার পৈত্রিক ভিটায় এল প্যাটার্নের টিন শেড নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু ২০০১ সালের অক্টোবরের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ফলে সেই জাদুঘর গড়ে তোলার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

২০০৯ সালেই আমরা বালাশুরের যদুনাথ রায়ের এই পরিত্যক্ত বাড়ির সন্ধান পাই এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় এখানে জাদুঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেই।

এখানে একটি জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ে নূহ-উল-আলম লেনিন সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করেন এবং তাদের সম্মতি নিয়েই কার্যক্রম শুরু করেন। অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে সরকার এই বাড়ী ও পুকুর অগ্রসর বিক্রমপুরকে লিজ প্রদান করে এবং জাদুঘর নির্মাণের অনুমতি দেয়।

২৯ মে ২০১০ সালে জাদুঘরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। ২৮ মে,২০১৩ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে জাদুঘরের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। ইতোমধ্যে এখানে একটি গেস্ট হাউজ নির্মাণের কাজও প্রায় সমাপ্তির পথে। ২০ জুন, ২০১৪ সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর কর্তৃক জাদুঘরের দ্বারোদ্ঘাটন ছাড়াও এখানে একটি নৌকা জাদুঘর স্থাপনের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে জাদুঘর নির্মিত হলেও এর বিভিন্ন গ্যালারি সমূহ সাজসজ্জা ও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করার জন্য জনতা ব্যাংক ১০ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করে। অবশিষ্ট অর্থায়ন আমাদেরকেই করতে হয়েছে।

আপনারা জানেন যদুনাথ রায়ের এই বাড়িটি অর্পিত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত। আইনানুগভাবে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনকে তা লিজ প্রদান করে। আমরা এই বাড়িটির দায়িত্বভার প্রশাসনের কাছ থেকে বুঝে নেওয়ার সময় দেখতে পাই এর কিছু অংশ অবৈধ দখলদারদের দখলে। প্রশাসন তাদের উৎখাত করার উদ্যোগ নেয়। তখনই এই দখলদার ও তার পৃষ্ঠপোষক কতিপয় স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি নূহ-উল-আলম লেনিনের বিরুদ্ধে ‘অবৈধভাবে হিন্দু সম্পত্তি দখলের’অভিযোগ এনে জঘন্য মিথ্যা প্রচারণায় মেতে ওঠে। পত্র-পত্রিকায় মনগড়া খবর ছাপিয়ে নূহ-উল-আলম লেনিনের চরিত্র হনন ও তার সম্মানহানির চেষ্টা করা। আমরা এই অপচেষ্টা রুখে দাঁড়াই। স্থানীয় জনসাধারণ,বুদ্ধিজীবী,হিন্দু সম্প্রদায় এবং বিশেষত আওয়ামী লীগ দখলদার ও তার মদতদাতাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে রুখে দাঁড়ানোয় এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন অপপ্রচারকারীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, অন্যদিকে বাড়িটি দখলমুক্ত হয়। নূহ-উল-আলম লেনিন একটি মানহানির মামলাও করেছিলেন।

যে সংবাদপত্রটি বিভ্রান্ত হয়ে অপপ্রচারে নেমেছিলে তারা যখন প্রকৃত অবস্থা জানতে পেরে অপপ্রচার বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেয়,নূহ-উল-আলম লেনিন তখন মানহানির মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন।

কিন্তু অন্যদিকে জনৈক সালাম আজাদ হাইকোর্টে সরকার ও নূহ-উল-আলম লেনিনের বিরুদ্ধে রিট মামলা দায়ের করে। আপিল বিভাগে তার আবেদন কার্যকর না করার নির্দেশ দিয়েছে। মামলাটি এখন চূড়ান্ত শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। তবে বস্তুত নূহ-উল-আলম লেনিনের চরিত্রহানির অপচেষ্টাটি ব্যর্থ হয়েছে।

 

প্রিয় বন্ধুগণ,

অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব বিক্রমপুর অঞ্চলে প্রতœতাত্ত্বিক অনুসন্ধান, খনন ও গবেষণা কার্যক্রমের অভূতপূর্ব সাফল্য। দেশের খ্যাতিমান প্রতœতত্ত্ববিদ ও উয়ারী-বটেশ্বরে বাংলাদেশের প্রাচীনতম দূর্গনগরী ও প্রতœ নিদর্শনের আবিস্কারক জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতœতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সুফী মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বাধীন ঐতিহ্য অন্বেষণের সঙ্গে অগ্রসর বিক্রমপুরের যৌথ কার্যক্রম বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছে। প্রতœতাত্ত্বিক না হয়েও ঐতিহ্য অন্বেষণের কাজে সরকারি সহযোগিতা আদায় করে দিতে গিয়ে ড. নূহ-উল-আলম লেনিন বিক্রমপুর অঞ্চলে প্রতœতাত্ত্বিক অনুসন্ধান ও উৎখননের জন্য ঐতিহ্য অন্বেষণকে উদ্বুদ্ধ করেন। বস্তুত তার আহ্বানে সাড়া দিয়েই ড. সুফী মোস্তাফিজুর রহমান বিক্রমপুর অঞ্চলে প্রতœতাত্ত্বিক খনন কাজ চালাতে এগিয়ে আসেন। জনাব নূহ-উল-আলম লেনিনের চেষ্টার ফলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এ কাজে সীমিত আর্থিক সহায়তাদান ও খননের অনুমতি প্রদানে সম্মতি দেয়। ২০১০ সাল থেকে মুন্মিগঞ্জ সদর উপজেলায় খনন কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের জন্মভিটার সন্নিকটে রঘুরামপুরে একটি বৌদ্ধ বিহারের অংশ বিশেষ মাটির তলা থেকে উন্মোচিত করা সম্ভব হয়েছে। বৈজ্ঞানিক কার্বন-১৪ পরীক্ষায় প্রামণিত হয়েছে এই বিহারটি ১ হাজার বছরের প্রাচীন। প্রতœতত্ত্ববিদরা মনে করেন এটিই হচ্ছে ঐতিহাসিক বিক্রমপুরী বিহার, যেখানে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান অধ্যয়ন এবং অধ্যাপনা করেছেন। বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাসে এই আবিষ্কার একটি নতুন সংযোজন। ইতোমধ্যে বিক্রমপুরে এই বৌদ্ধবিহার আবিষ্কারের বিষয়টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পাঠক্রমে (ক্লাস ফাইভ ও ক্লাস নাইন)-এর পাঠ্য পুস্তকে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

এই কাজটি করতে গিয়ে আবিষ্কৃত হয়েছে সম্ভবত বাংলাদেশের প্রাচীনতম নৌকা,কাঠের ভাস্কর্য,বৌদ্ধ দেবী মুর্ত্তি,টেরাকোটাসহ নানারকম মূল্যবান প্রতœ নিদর্শন।

সবচেয়ে আনন্দের বিষয় ২০১৩ সালে শুরু করে ২০১৪ এবং এবার ২০১৫ সালের খননের ফলে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার নাটেশ্বরে আবিষ্কৃত হয়েছে প্রাচীন বৌদ্ধ মন্দির কমপ্লেক্স বা মন্দির নগরী। এ বছর খনন ও গবেষণা কাজে অগ্রসর বিক্রমপুরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চীনের উনান প্রদেশের চার সদস্যের একটি প্রতœতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞ দল। বলাবাহুল্য,প্রকল্পটি অগ্রসর বিক্রমপুরের হলেও খনন ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন ড. সুফী মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে ঐতিহ্য অন্বেষণ,জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়,কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়,স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতœতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীগণ। নাটেশ্বরে খনন,গবেষণা ও সংরক্ষণের বিষয়ে চীনা সহযোগিতা সম্পর্কে এ বছর অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন ও চীনের উনান প্রাদেশিক প্রতœতাত্ত্বিক বিভাগের একটি সহযোগিতা-সম্মতিপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে। আমরা আশা করছি আগামী বছরগুলোতে এই সহযোগিতার ক্ষেত্রে আরও প্রসারিত হবে এবং আবিষ্কৃত বৌদ্ধ স্থাপনাসমূহকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বৌদ্ধ সম্প্রদায় ও পর্যটকদের কাছে নাটেশ্বর আকর্ষণীয় দর্শণীয় স্থানে পরিণত হবে।

 

সম্পানিত প্রতিনিধি ভাই ও বোনেরা,

বিক্রমপুরে প্রতœতাত্ত্বিক খনন,অনুসন্ধান ও গবেষণায় ড. সুফী মোস্তাফিজুর রহমান ও ঐতিহ্য অন্বেষণ এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্ররা যে অবদান রেখেছেন আজকের এই সম্মিলনী থেকে আমরা তাদের অভিনন্দন জানাচ্ছি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

আমি এই সুযোগে বিক্রমপুর জাদুঘর প্রতিষ্ঠা এবং অগ্রসর বিক্রমপুরের অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ,নকশা, সাজসজ্জা,পরিকল্পনা,প্রদর্শনীর কাজে যারা সাহায্য সহযোগিতা করেছেন,পরামর্শ দিয়েছেন,বিশেষ করে বিশিষ্ট স্থপতি কবি রবিউল হুসাইন,নাজনীন হক মিমি,কবি তারিক সুজাতকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রকাশ করছি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

আমাদের সংগঠনের অন্যতম নেতা প্রকৌশলী ঢালী আবদুল জলিল বা অন্য যে সব সহকর্মী এ ব্যাপারে উদ্যোগী ভূমিকা পালন ও অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তাদেরকেও আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। তবে তারা এ কাজটি করেছেন সংগঠনের কর্মী হিসেবেই। এ কারণে আমরা আমাদের বেশি আত্মপ্রশংসা থেকে বিরত থাকাই সমীচিন মনে করছি।

 

 

প্রতিনিধিবৃন্দ,

আপনারা জেনে খুশী হবেন, মুন্সিগঞ্জের মালপাড়ায় সরকারের একটি পরিত্যক্ত এবং বাস অনুপযোগী ভবনের অংশ বিশেষকে আমরা সংস্কার করতে সক্ষম হয়েছি। এর পাশে আমরা আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে একটি দ্বিতল ভবন নির্মাণ করেছি। মালপাড়ার এই ভবনটির নামকরণ করা হয়েছে অগ্রসর বিক্রমপুর ভবন। ইতোমধ্যেই সংগঠনের সভাপতি নূহ-উল-আলম লেনিন ভবনটি উদ্বোধন করেছেন। ভবনটি নির্মাণ ও সংস্কারের যাবতীয় অর্থ সংগ্রহ এককভাবে নূহ-উল-আলম লেনিন করেছেন। আমরা এ জন্য তাকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

এই ভবনে কেন্দ্রীয় পর্ষদের উদ্যোগে ‘জ্ঞানপীঠ’ স্বদেশ গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হবে। এই গবেষণা কেন্দ্রে ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, অর্থনীতি এবং প্রতœতাত্ত্বিক গবেষণার সুযোগ থাকবে। ইতোমধ্যে ড. নূহ-উল-আলম লেনিনকে সভাপতি এবং প্রফেসর সুখেন ব্যানার্জীকে কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব দিয়ে গবেষণা পরিচালনার একটি প্রাথমিক কমিটি করা হয়েছে। বর্তমান সম্মিলনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে গবেষণা কেন্দ্রটির উদ্বোধন ও পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা কমিটি করা হবে।

মুন্সিগঞ্জের মালপাড়াস্থ ‘অগ্রসর বিক্রমপুর ভবনে’ ইতোমধ্যে মুন্সিগঞ্জ কেন্দ্রের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

আপনারা জানেন লৌহজং-এর কনকসারে অগ্রসর বিক্রমপুরের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও মুক্তমঞ্চ নির্মাণের কাজ প্রায় সম্পন্ন হওয়ার পথে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে একটি চারতলা ভবনের মালিক হতে চলেছে অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন। এখানে অতিথি, গবেষক ও ফেলোদের থাকার ব্যবস্থাও হবে। একই প্রাঙ্গণে ‘মুক্তিযুদ্ধ গ্রন্থ জাদুঘর’ উদ্বোধনের প্রস্তুতিও প্রায় শেষ পর্যায়ে। আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের মুক্তমঞ্চ, কেন্দ্রীয় কার্যালয়, রহমান মাস্টার গণ পাঠাগার, আর্কাইভস ও মুক্তিযুদ্ধ গ্রন্থ জাদুঘরের জন্য নূহ-উল-আলম লেনিনের ভাই-বোনেরা পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া তাদের বাস্তুভিটার ১৮ শতাংশ জমি অগ্রসর বিক্রমপুরকে দান করেছেন। প্রথমে ১০ শতাংশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে অগ্রসর বিক্রমপুরের এ সব স্থাপনার স্থান সংকুলান না হওয়ায় তারা চূড়ান্তভাবে আরও ৮ শতাংশসহ মোট ১৮ শতাংশ দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আজকের এই সম্মিলনীর পক্ষ থেকে আমরা জমিদাতা নূহ-উল-আলম লেনিনের ভাই-বোন ও পরিবারের সদস্যদের অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আপনারা জেনে খুশী হবেন অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও মুক্তিযুদ্ধ গ্রন্থ জাদুঘরের উদ্বোধন করা হবে।

 

প্রতিনিধি ভাই ও বোনেরা,

আমি আমার কার্যবিবরণী শেষ করে এনেছি। আপনাদের অবগতির জন্য আর একটি সুসংবাদ জানাতে চাই। আপনার শুনেছেন রঘুরামপুরে আমরা বৌদ্ধ বিহার আবিষ্কার করেছি। এই বৌদ্ধবিহার সংলগ্ন স্থানে একটি সাইট মিউজিয়াম এবং পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের নামে ২৪.৬০ শতাংশ জমি ক্রয় করা হয়েছে। জমি ক্রয়ের জন্য আমাদের বিক্রমপুরের গর্বিত সুসন্তান লৌহজং উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান জনাব ওসমান গণি তালুকদার ৩৩ লক্ষ টাকা ও আই.এফ.আই.সি ব্যাংক ২২ লক্ষ টাকা দান করেছেন। রেজিস্ট্রেশন ফিস সহ জমি ক্রয়ে আমাদের সর্বমোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা। জমি ক্রয় বাবদ ২৫ লক্ষ টাকা আমাদের সভাপতি সাহেব ঋণ করেছেন। চেষ্টা করা হচ্ছে আরও অনুদান সংগ্রহ করে এই ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করা। ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে সাইট মিউজিয়াম নির্মাণের প্রকল্প প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষে এই প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে, এটি হবে রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী এবং মুন্সিগঞ্জ জেলায় আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র।

প্রসঙ্গত আমাদের সকল কাজে সহায়তার জন্য আমরা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় অর্থমন্ত্রী, মাননীয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, মাননীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টাকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমরা আমাদের জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিভিন্ন উপজেলা প্রশাসনকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। একইসঙ্গে সমাজের যারা আমাদের কর্মকা- নানাভাবে সাহায্য সহযোগিতা করছেন, জাদুঘরে বিভিন্ন দর্শনীয় বস্তু দিয়েছেন, শ্রম ও মেধা দিয়েছেন, তাদের সবাইকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

আমরা অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের একটি ত্রৈমাসিক পত্রিকা প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যে ‘অগ্রসর বিক্রমপুর’ শীর্ষক গবেষণাধর্মী ত্রৈমাসিকটির দুটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। আমরা প্রকাশনার কাজে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

 

সংগ্রামী প্রতিনিধি ভাই ও বোনেরা,

আমি আমার সংক্ষিপ্ত কার্যবিবরণী আপনাদের কাছে পেশ করলাম। এখানে হয়তো অনেক কথা, অনেকের অবদান বা কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করা হয়নি। এটা আমার ইচ্ছাকৃত না। তবুও আমি এ জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

আসলে এই প্রতিবেদনটি আমার পেশ করার কথা ছিলনা। এখনো প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সাধারণ সম্পাদক জনাব এনামুল হক চৌধুরী খসরু। এই প্রতিষ্ঠানের জন্য তার অবদান আমরা দ্বিধাহীন চিত্তে স্মরণ করছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য সাধারণ সম্পাদক মহোদয় দেড় বৎসরাধিক কাল তার দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রয়েছেন। এ ব্যাপারে সভাপতির ব্যক্তিগত উদ্যোগের পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয় নি। সংগঠনে ব্যক্তিগত কারণে তার নিষ্ক্রিয়তার জন্যই আমাকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করতে হয়। এ কাজের জন্য আমি নিজেকে যথেষ্ট যোগ্য মনে করিনা। কিন্তু সংগঠনের স্বার্থে এবং সহকর্মীদের সহযোগিতায় আমাকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমার ভুল ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা তাই আপনারা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

তবে এখন পর্যন্ত এটাই বাস্তবতা যে,অগ্রসর বিক্রমপুরের সভাপতির দায়িত্বের পাশাপাশি সাধারণ সম্পাদকেরও অনেক দায়িত্ব এককভাবে নূহ-উল-আলম লেনিন পালন করে আসছেন। এটা তার গুণ হতে পারে। কিন্তু এটা একই সঙ্গে আমাদেরও সীমাবদ্ধতা। এভাবে একজনের উপর পুরো দায়ভার চাপানো না সংগঠনের জন্য, না ব্যক্তির জন্য কল্যাণকর হতে পারে না।

আশা করি এই সম্মিলনীর ভিতর দিয়ে আমাদের এই দুর্বলতা আমরা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবো। একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি ও নতুন নেতৃত্বে নির্বাচন করে,আমরা যদি নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করি, তাহলে এই সংগঠন কেবল শক্তিশালীই হবে না;ভবিষ্যতে কারও অনুপস্থিতিও সংগঠনের কাজের ধারাবাহিকতা ক্ষুণœ করতে পারবে না।

বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত প্রতিনিধি ভাই ও বোনেরা,সম্মিলন অনুষ্ঠানের নানা ত্রুটি বিচ্যুতি আমাদের হতে পারে। আপনাদের কষ্ট হতে পারে। আশা করি সব কিছু ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখে আমাদের সম্মিলনীকে আপনারা চিরস্মরণীয় করে রাখবেন। আমাদের সমবেত কাজের ভিতর দিয়ে আমরা সামাজিক উদ্যোগের দিক থেকে সারা দেশের সামনে নতুন নতুন নজির স্থাপন করতে সক্ষম হবো।

আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। সবাই সুস্থ থাকুন,ভালো থাকুন। অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের জয় হোক।

সম্মেলনের অনুষ্ঠান সূচি

প্রথম পর্ব : সকাল ৯.৩০টা থেকে ২.০০টা

সঞ্চালক : আলম শহীদ

১. রেজিস্ট্রেশন ও সকালের নাস্তা/চা         : সকাল ৯.০০-১০.০০টা

২. জাতীয় এবং সাংগঠনিক পতাকা উত্তোলন    : সকাল ১০.৩০টা

জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেনÑ নূহ-উল-আলম লেনিন

সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করবেনÑ ডা. রশিদী মাহবুব

৩. মঞ্চে আসন গ্রহণ                  : সকাল ১০.৩৫টা

বিদায়ী কমিটির সকল সদস্যবৃন্দ

৪. সভাপতি ঘোষণা : সভাপতিত্ব করবেন : নূহ-উল-আলম লেনিন

৫. শোক প্রকাশ : ১ মিনিট নীরবতা পালন

৬. কর্ম অধিবেশন : ক) স্বাগত ভাষণÑ প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক : প্রফেসর ডা. রশিদী মাহবুব

খ) সংগঠনের কার্যক্রম সম্পর্কিত প্রতিবেদন : মো. নজরুল ইসলাম

৭. মুক্ত আলোচনা

৮. সভাপতির বক্তব্য

মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতি : ২.০০Ñ২.৪৫টা

দ্বিতীয় অধিবেশন : ২.৪৬Ñ৪টা

১. সভাপতিত্ব : প্রফেসর ডা. রশিদী মাহবুব

২. গঠনতন্ত্র সংশোধন : ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা : নূহ-উল-আলম লেনিন

৩. নতুন কমিটি ঘোষণা : নূহ-উল-আলম লেনিন

৪. সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান : বিকেল ৪.১০Ñ৫.০০টা

———————————

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *