Blog

অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডশেন এর সহ সভাপতি অ্যার্টনি জনোরলে মাহবুবে আলমের প্রয়াণে শোকাঞ্জলি 28 Sep

অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডশেন এর সহ সভাপতি অ্যার্টনি জনোরলে মাহবুবে আলমের প্রয়াণে শোকাঞ্জলি

করোনা ঝড়ে নিভে গেল আমাদের জাতীয় জীবনের একটি উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা, বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম। প্রায় পঁচিশদিন করোনা ভাইরাসের সাথে লড়াই করে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ তারিখে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর প্রয়াণে বাংলাদেশ হারালো একজন অসমসাহসী সৎ একনিষ্ঠ কর্মযোগী আইনজীবীকে যিনি জীবনের ঝুঁকিকে উপেক্ষা করে যুদ্ধাপরাধী বিচার এবং বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা বিচারে অংশগ্রহণ করে জাতিকে দীর্ঘ দিনের অভিশাপ থেকে মুক্ত করেছিলেন।

অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম ১৯৯৮ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে ২০০১ সালের ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯৩-৯৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ও ২০০৫-২০০৬ সালে সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালের ১৩ জানুয়ারি থেকে তিনি বাংলাদেশের ১৩তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে সততা নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এ দেশে কর্মক্ষেত্রে সৎ সাহসী ও দক্ষ মানুষের বড় অভাব। অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম সেখানে ছিলেন অত্যন্ত আস্থা ও ভরসার জায়গা। দায়িত্বের ক্ষেত্রে তাঁর মত একনিষ্ঠ ও আদর্শবান মানুষ বিরল। অবয়বে তিনি যেমন ছিলেন জ্যোতির্ময় এক সুন্দর মানুষ, চরিত্র ও ব্যক্তিত্বেও সেই সৌন্দর্যের জ্যোতি তাঁকে তাঁর সহকর্মী বন্ধুবান্ধব ও আপনজনদের মধ্যে বিশিষ্ট করে তুলেছিল। তিনি ছিলেন দেহে মনে মননে চিন্তায় চেতনায় একজন সর্বাঙ্গ সুন্দর মানুষ। পেশাগতভাবে বহুবিধ গুরুদায়িত্বের ভার তাঁর কাঁধে ন্যস্ত ছিল, কিন্তু পেশাগত দায়িত্বভার তাঁকে দেশ ও সমাজের অন্যান্য দায়িত্ব থেকে কখনো বিরত রাখেনি। আর্ত নিপীড়িত দুঃখী বিপন্ন মানুষের প্রতি তাঁর অসীম ভালোবাসা ও মানবিক বদান্যতা তাঁকে আপনজনদের কাছে ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ অভিধায় ভূষিত করেছ। এই মহৎপ্রাণ মানুষটি ছিলেন বিক্রমপুরের গৌরব। লৌহজংয়ের কৃতী সন্তান (তিনি মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মৌছামন্দ্রা গ্রামে ১৯৪৯ সনের ১৭ ফেব্রæয়ারি জন্মগ্রহণ করেন।) অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম ছিলেন বিক্রমপুরের সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনে’র সহসভাপতি। ফাউন্ডেশনের সাথে তাঁর ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। এ ফাউন্ডেশনের সার্বিক উন্নতি এবং সংগঠনের কর্মকাণ্ড বেগবান রাখতে অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলমের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত দৃঢ়। তিনি শুধু বিক্রমপুরেরই গর্ব ছিলেন না ছিলেন অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনেরও একজন অন্যতম দিক নির্দেশক, একজন পরম আপন অভিভাবক। তাঁর মৃত্যুতে দেশ হারালো একজন সৎ আদর্শবান কর্মযোগী মহৎপ্রাণ মানুষকে আর অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন হারালো তার একজন পথের কাণ্ডারি, পথ প্রদর্শককে। তাঁর প্রয়াণে অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের সভাপতিসহ সকল সদস্য, সকল স্তরের কর্মী এবং সকল শুভানুধ্যায়ী গভীর শোকে অভিভূত। তাঁর প্রতি আমরা নিবেদন করছি হৃদয়ের শ্রেষ্ঠ অর্ঘ্য। মহান আল্লাহ তাঁকে অনন্তলোকে পরম শান্তির আশ্রয় দান করুন।

ছ‌বি: জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউ‌ন্ডেশ‌নের ‘জ্ঞানালোক পুরস্কার’ প্রদান অনুষ্ঠা‌নে বক্তৃতারত অ্যাড‌ভো‌কেট মাহবু‌বে আলম।

ছবিঃ নাছির উদ্দিন আহমেদ জুয়েল, তা‌রিখ ৩১/০৭/২০১৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *