বিক্রমপুরের ইতিহাস

বিক্রমপুরের ইতিহাস

================================================

বিক্রমপুর নামকরণঃ

.      প্রাচীন সংস্কৃত সাহিত্যে বিক্রমপুরের নাম পাওয়া যায় না। তার বিশেষ কারণ এই যে, বিক্রমপুর প্রাচীন নাম নয়। পূর্বে বিক্রমপুর সমতট নামে প্রখ্যাত ছিল। সেন রাজাগণের সময় এই সমতট বিক্রমপুর নামে অভিহিত হয়।
.     জনশ্র“তি আছে যে, উজ্জায়নীর বিখ্যাত রাজা বিক্রমাদিত্য ভ্রাতা ভর্ত্তৃহরির সাথে মনোমালিন্য হওয়ায় দেশ ভ্রমণে বের হয়ে সাগর তীরবর্তী সমতট প্রদেশের স্থান বিশেষের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সেখানে অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নেন। তারই নামানুসারে এ অঞ্চলের নাম হয়েছে বিক্রমপুর। কিন্তু এই মত গ্রহণীয় নয়। কারণ উজ্জয়িনীর রাজা বিক্রমাদিত্যের এ অঞ্চলে আসার কোনো ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায় না। এমনকি তার নাম ও রাজত্বকাল সম্বন্ধেও মতভেদ বিদ্যমান আছে।

ভৌগলিক বিবরণঃ

. প্রাচীন সীমা : পশ্চিমে পদ্মা, পূর্ব-উত্তরে ধলেশ্বরী, দক্ষিণ দিকে আরিয়ল নদী ও কৃষ্ণসলিল মেঘনাদ নদের সম্মিলিত সাগরাংশ এই চতুঃসীমা মধ্যবর্তী স্থানই বিক্রমপুর নামে পরিচিত ছিল।
বর্তমান সময়ে বিক্রমপুরের উত্তরে ধলেশ্বরী বা ইছামতী নদী, পূর্বে মেঘনা, দক্ষিণে ইদিলপুর ও পশ্চিমে পদ্মা এই চতুঃসীমান্তবর্তী অনতি বিস্তীর্ণ ভূমি খণ্ডই বিক্রমপুর নামে পরিচিত। ইহার আয়তন ৫০০ বর্গমাইল। সূত্র : বিক্রমপুরের ইতিহাস, শ্রীমোগেন্দ্র নাম গুপ্ত, ১৩১৬ বাংলা

. বিক্রমপুর নামের অঞ্চলটি অতিশয় নদীমাতৃক ও পলিগঠিত। ৯০০ বর্গমাইলের বিক্রমপুর নামক ভূখণ্ডকে নদীর প্রবাহ ও ভাঙ্গন শতাব্দীর পর শতাব্দী আকার ও অবয়ব পরিবর্তন করে কালীন্দার সাথে একত্রিত স্রোতধারায় পূর্বমূখী হয়ে মেঘনার সাথে মিশে যায়। হঠাৎ এই গতি পরিবর্তনের ফলে বিক্রমপুর দ্বি-খণ্ডিত হয়ে যায়। এভাবেই বিক্রমপুর উত্তর বিক্রমপুর ও দক্ষিণ বিক্রমপুর নামে পরিচিত হতে থাকে। মুন্সীগঞ্জ জেলার অন্তর্গত পাঁচটি থানা/উপজেলা যথাÑ মুন্সীগঞ্জ সদর, টঙ্গীবাড়ী, শ্রীনগর, সিরাজদিখান ও লৌহজং নিয়েই উত্তর বিক্রমপুর পরিচিত। দক্ষিণ বিক্রমপুর নাম ধারন করে বহুদিন অবস্থান করার পর ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার প্রশাসনিক সুবিধার্থে দক্ষিণ বিক্রমপুরকে ফরিদপুর জেলার সাথে অন্তর্ভুক্ত করে। পরবর্তীকালে বাংলাদেশ আমলে মহকুমাগুলোকে যখন জেলায় রূপান্তরিত করা হয় তখন দক্ষিণ বিক্রমপুর শরিয়তপুর জেলায় অন্তর্ভুক্ত হয়। শরিয়তপুর জেলার নড়িয়াসহ অনেক অঞ্চলের অনেক অধিবাসী এখনো নিজেদের বিক্রমপুরের মানুষ বলতে গর্ববোধ করেন। সূত্র : মুন্সীগঞ্জ পরিচিতি, জেলা প্রশাসন, মুন্সীগঞ্জ, ১৪১০ বাংলা

বর্তমান সীমা : পূর্বে-কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি ও হোমনা উপজেলা, চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলা যা মুন্সীগঞ্জের সাথে প্রাবাহিত মেঘনা নদীর দ্বারা বিভাজিত। পশ্চিমে- শরিয়তপুর ও মাদারীপুর জেলাকে পদ্মা নদী বিভাজিত করেছে। উত্তরেÑ ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ ও দোহার উপজেলা এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলা। দক্ষিণেÑ পদ্মা নদী যার অপর পার্শ্বে শরিয়তপুর জেলা।

বিক্রমপুর নগরীর সীমা : বিক্রমপুর বলতে বর্তমান একটি বিরাট এলাকাকে বোঝায়। উত্তরে ধলেশ্বরী-কালিন্দা নদী এবং দক্ষিণে পদ্মা নদী বেষ্টিত ভূ-ভাগের যে অংশ মুন্সীগঞ্জ মহকুমার অন্তর্গত তার প্রায় সবটাই বর্তমান বিক্রমপুর নামে মোটামুটি পরিচিত। আগেরকার দিনে বিক্রমপুরের আয়তন খুব সম্ভব আরো অনেক সংক্ষিপ্ত ছিল। সেই বিক্রমপুর ছিল খুব সম্ভব একটি অতি সমৃদ্ধিশালী জনপদ। এই নগরীর আয়তন এককালে ১৫ বর্গমাইল ছিল বলে ডক্টর ভট্টশালী অনুমান করেন এবং তাঁর মতে, এই নগরীর উত্তর দিকে ছিল ইছামতী নদী। বর্তমান ইছামতী মরে গিয়ে ধলেশ্বরীর সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে। এ নগরীর পূর্ব দিকে ছিল ব্রহ্মপুত্র নদী, পশ্চিমে ছিল মীরকাদিম খাল ও দক্ষিণে ছিল মাকুহাটি খাল। প্রাচীন কীর্তির ধ্বংসাবশেষের চিহ্ন দেখে ধারণা হয় যে, মীরকাদিম খালের অনেক পশ্চিমে এ নগরীর পশ্চিম সীমানা প্রসারিত ছিল এবং তা ছিল খুব সম্ভব সেন আমলেও।

সূত্র : বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ, আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, ১৩৯১ বাংলা।

বর্তমান বিক্রমপুরের উপজেলার তথ্য বিবরণী

 মুন্সীগঞ্জ  সদর  ইউনিয়ন  ১০  গ্রাম  ৯৭ মৌজা  ১০১
 টঙ্গীবাড়ী  ১২  ১৭১  ১১১
 শ্রীনগর  ১৪  ১৪১  ১০২
 সিরাজদিখান  ১৪  ১৭৭  ১২৪
 লৌহজং  ১০  ৬৭  ১০১
মোট  ৬০  ৬৫৯  ৫৩৯

 

Source : wikidedia